জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর নতুন ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছে অ্যামেরিকা।
গত ফেব্রুয়ারিতে অ্যামেরিকার সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আগের অনেক শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়ার পর এটি দ্বিতীয়বারের মতো নতুন আমদানি শুল্ক ঘোষণার ঘটনা।
ইউএস ট্রেড ডিপার্টমেন্ট মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এসব দেশ অ্যামেরিকায় আমদানি হওয়া পণ্যের প্রায় ৯৯.৪ শতাংশের উৎস। তদন্তে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানির নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ, ব্রিটেইন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কানাডা, মেক্সিকো, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও তাইওয়ানসহ কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। অন্যদিকে, চীন ও ভারতসহ বাকি ৪৫টি দেশকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি হতে হবে।
তবে এই শুল্ক এখনই কার্যকর হচ্ছে না। এটি বাস্তবায়নের আগে ট্রাম্প প্রশাসনকে নির্ধারিত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
অ্যামেরিকার বাণিজ্যিক প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে পণ্য উৎপাদন বৈশ্বিক বাজারে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করে, যেখানে অ্যামেরিকান শ্রমিকদের অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হয়।
বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া
অভিযুক্ত দেশের তালিকায় থাকা ব্রিটেইনের সরকার বলেছে, তারা নিজ দেশে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে কাজ করছে।
চীন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, দেশটিতে কোনো ধরনের জোরপূর্বক শ্রম নেই এবং এ ইস্যুকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইউরোপীয় কমিশনও এই শুল্ক প্রস্তাবকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে তারা অ্যামেরিকার সঙ্গে পূর্বে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথা জানিয়েছে।
ভারতের বাণিজ্য বিশ্লেষক অজয় শ্রীবাস্তব বলেছেন, এই পদক্ষেপ অ্যামেরিকার বৃহত্তর চাপ প্রয়োগের কৌশলের অংশ হতে পারে। তার মতে, ভারতের উচিত প্রস্তাবিত শুল্কের আইনি ভিত্তি চ্যালেঞ্জ করা।
এর আগে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অ্যামেরিকার সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা বেশ কয়েকটি শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে। এরপর থেকেই নতুন বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করে আসছে ট্রাম্প প্রশাসন।