আমেরিকার সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি অনুমোদন করেছে গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্ট। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে চুক্তির পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১৬ জন আইনপ্রণেতা। বিপক্ষে কোনো ভোট পড়েনি। তবে ভোটদানে বিরত ছিলেন সাতজন।
চুক্তি অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক দ্বীপটিতে দুটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ পাবে আমেরিকা। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ন্যাটোর বাইরের দেশগুলোকে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত খাতে বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার বিধান রাখা হয়েছে। বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব বিস্তার ঠেকাতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির মাধ্যমে আর্কটিক অঞ্চলে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি অঞ্চলটিতে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব বিস্তার ঠেকানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। দ্বীপটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বারবার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কৌশলগত কারণে গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করে আসছেন তিনি। এ নিয়ে ন্যাটোর সদস্য ডেনমার্কসহ অন্যান্য অংশীদারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার জন্য ডেনমার্কের পার্লামেন্টের অনুমোদনও প্রয়োজন। আগামী ১৯ নভেম্বর দেশটির পার্লামেন্টে চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।
চুক্তির মধ্য দিয়ে আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সূত্র: এএফপি, আরব নিউজ।