আইস হেফাজতে ব্রেন টিউমার আক্রান্ত গ্রিন কার্ডধারী, পাচ্ছেন না চিকিৎসা
প্রতীকী ছবি। গ্রাফিক্স: টিবিএন
- 0

প্রতীকী ছবি। গ্রাফিক্স: টিবিএন

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪ ২০২৫, ৬:৫১ হালনাগাদ: মে ১১ ২০২৬, ৪:৩৯

প্রায় দুই মাস ধরে ইউএস ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে আছেন ৪৮ বছর বয়সী পারামজিত সিং নামে এক শিখ গ্রিন কার্ডধারী ব্যক্তি। পরিবারের অভিযোগ, ব্রেন টিউমার এবং হৃদরোগে ভুগছেন তিনি। পাচ্ছেন না প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা।
বিবিসি জানায়, পারামজিত একজন ভারতীয় পাসপোর্টধারী। তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে গ্রিন কার্ড নিয়ে অ্যামেরিকায় বসবাস করছেন। তিনি তার পরিবারের সাথে ইন্ডিয়ানাতে থাকেন।
পারামজিতের বেশ কয়েকটি গ্যাস স্টেশনের মালিকানা রয়েছে। তার স্ত্রী এবং দুই সন্তান অ্যামেরিকান নাগরিক। তবে পারামজিত এখন নির্বাসনের হুমকির সম্মুখীন।
গত ৩০শে জুলাই, ভারত ভ্রমণ থেকে ফেরার সময় শিকাগো ও'হেয়ার ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে তাকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আটক করে। এরপর থেকে তিনি তাদের হেফাজতে রয়েছেন।
ইউএস ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কর্তৃপক্ষ তাকে আটকের কারণ হিসেবে দুই দশকের পুরোনো মামলার কথা উল্লেখ করেছে। তবে পারামজিতের পরিবার এবং আইনজীবী বলছেন যে তার বিরুদ্ধে কোনও সক্রিয় মামলা নেই।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মস্তিষ্কের টিউমার এবং হৃদরোগ থাকা সত্ত্বেও তার যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে না।
ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা পরিবারকে জানিয়েছেন, পারামজিতকে ১৯৯৯ সালের একটি মামলায় আটক করা হয়। পরিবারের আবেদন সত্ত্বেও তাকে পাঁচ দিন বিমানবন্দরে আটকে রাখা হয়েছিল। এরপর ইন্ডিয়ানার ক্লে কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে তাকে স্থানান্তরিত করা হয়।
মামলাটিতে অর্থ প্রদান না করে পাবলিক ফোন ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। আদালতের রেকর্ড অনুসারে, তিনি ১০ দিন জেল খেটেছেন এবং ৪,১৩৭.৫০ ডলার জরিমানা দিয়েছেন। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ফলে তার অ্যামেরিকান নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায়।
ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ২০০৮ সালে ইলিনয়ে একটি জালিয়াতির অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন পারামজিত। কিন্তু তার পরিবারের দাবি, তার বিরুদ্ধে এমন কোনও অভিযোগ নেই।
পরিবারের নিয়োগ করা একজন বেসরকারি গোয়েন্দা স্টেটে পরমজিত সিং নামে কোন ব্যক্তির অপরাধমূলক রেকর্ড খুঁজে পাননি, যা থেকে বোঝা যায় কর্তৃপক্ষ হয়তো তাকে অন্য কেউ ভেবে ভুল করেছে।
পারামজিতের আইনজীবী বিবিসিকে জানান, তিনি এই আটকের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করার পরিকল্পনা করছেন। আইসের এধরনের কাজকে অনৈতিক হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
এদিকে, পারামজিতের পরিবার তার স্বাস্থ্য নিয়ে ক্রমশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে। আটকের কারণে তার ব্রেন টিউমার সার্জারি বিলম্বিত হচ্ছে।
১৪ অক্টোবর পারামজিতের মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
