আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রামীণ ও কৃষিপ্রধান স্টেইটের ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে রিপাবলিকান পার্টি (জিওপি)। বিশেষ করে কৃষিপ্রধান স্টেইটগুলোতে রিপাবলিকানদের ভোটব্যাংকের প্রধান শক্তি হলেন কৃষকরা। তবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং মুনাফা কমে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ ও অর্থনৈতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কৃষকদের এই অসন্তোষ রিপাবলিকান পার্টির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের সমর্থন ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে ক্যানসাস ও আইওয়া সফরে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফসল কাটার মৌসুমে কানসাসের কৃষকদের ডিজেলের জন্য গত বছরের তুলনায় প্রতি গ্যালনে আড়াই ডলারেরও বেশি অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে। পাশাপাশি সার ও বীজের দাম বৃদ্ধি, বাজারের অনিশ্চয়তা এবং মুনাফা কমে যাওয়ায় তাঁদের আর্থিক চাপ আরও বাড়ছে।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার আমেরিকায় ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৬ ডলার ৩০ সেন্টে পৌঁছেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ৭০ শতাংশের বেশি। কৃষিযন্ত্র চালানো ও ফসল পরিবহনে ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল কৃষকদের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি বড় চাপ তৈরি করেছে।
আমেরিকার ডিপার্ট্মেন্ট অব এগ্রিকালচারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর কৃষকদের নিট আয় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমতে পারে। অন্যদিকে, উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। শুধু জ্বালানি ও তেল খাতে ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষকদের আর্থিক চাপ কমাতে ট্রাম্প প্রশাসন ১২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি রং করা ডিজেল করমুক্তভাবে ব্যবহারের বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে মনে করছেন কয়েকজন কৃষক।
ক্যানসাস ফার্ম ব্যুরোর প্রেসিডেন্ট গ্লেন ব্রাঙ্কো বলেন, আর্থিক চাপ কৃষকদের সরাসরি ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনের দিকে ঠেলে না দিলেও ভোট দেওয়ার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।
এদিকে, শুল্কনীতি, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় ও অভিবাসন নীতি নিয়েও রিপাবলিকান সমর্থকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। পাল্টা শুল্কের কারণে কৃষি উপকরণের ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ কমে যাওয়ায় কৃষকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ডেমোক্র্যাটরা ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান-সমর্থিত কৃষিপ্রধান স্টেইটগুলোতে অসন্তুষ্ট ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার সুযোগ দেখছেন। তবে কৃষকদের এই অসন্তোষ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ও ভোটের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো অনিশ্চিত।