অ্যামেরিকার সুপ্রিম কোর্ট গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় আরোপিত শুল্ককে অবৈধ ঘোষণার পর এবার সেই অর্থ ফেরত চেয়ে আদালতে গেলো বৈশ্বিক পরিবহন জায়ান্ট ফেডেক্স।
সোমবার প্রতিষ্ঠানটি ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে মামলা দায়ের করে জানায়—ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট বা আইইইপিএ'র আওতায় যে শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ রিফান্ড চায় তারা।
সুপ্রিম কোর্ট ৬–৩ ভোটে রায় দিয়েছিল, ট্রাম্প এই নিষেধাজ্ঞা আইনের অপব্যবহার করে আমদানি পণ্যে শুল্ক আরোপে তার সাংবিধানিক ক্ষমতা অতিক্রম করেছেন।
পেন–ওয়ার্টন বাজেট মডেলের অর্থনীতিবিদদের হিসাবে, প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় এখন সম্ভাব্য রিফান্ডের আওতায় পড়তে পারে। তবে কীভাবে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে—তা এখনও নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে।
ফেডেক্স তাদের মামলায় বলেছে, “বাদীপক্ষ ফেডারেল সরকারকে পরিশোধ করা সব আই ই ই পি এ শুল্কের পূর্ণাঙ্গ রিফান্ড দাবি করছে।” প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের আমদানিকারক হিসেবে দায়ভার বহন করেছিল। তবে কত ডলার ফেরত চাইছে, তা নির্দিষ্ট করেনি।
মামলায় বিবাদী করা হয়েছে ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন সিবিপি’র কমিশনার রডনি স্কট এবং অ্যামেরিকান সরকারকে। হোয়াইট হাউস ও সিবিপি তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
ওয়াশিংটনভিত্তিক আইন সংস্থা ক্রোওয়েল অ্যান্ড মরিং ফেডেক্সের পক্ষে মামলা পরিচালনা করছে। একই সংস্থা কস্টকো, রেভলন, এসিলরলাক্সোটিকাসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষেও আই ই ই পি এ শুল্ক রিফান্ড মামলায় প্রতিনিধিত্ব করছে।
আইনজীবীরা বলছেন, আমদানিকারক, পরিবেশক ও সরবরাহকারীরাই এই ধরনের রিফান্ড আদায়ে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। কারণ তাদের কাগজপত্রে শুল্কের পৃথক লাইন আইটেম হিসেবে উল্লেখ থাকে—যা আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা সহজ।
বস্টনভিত্তিক আইনজীবী রন চিওত্তি বলেন, “যদি আপনার চুক্তিতে শুল্ক বৃদ্ধির ধারা থাকে বা শুল্কের কারণে মূল্য সমন্বয়ের শর্ত উল্লেখ থাকে, তাহলে রিফান্ড পাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।”
তবে সাধারণ ভোক্তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি এত সহজ নয়। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর আমেরিকানদের রিফান্ড চেক দেওয়ার দাবি তুলেছেন। কিন্তু চিওত্তির মতে, অধিকাংশ ব্যবসা ও ভোক্তা বাড়তি মূল্য পরিশোধ করলেও, তাদের কাছে এমন লিখিত প্রমাণ নাও থাকতে পারে যা দেখায়—দাম বৃদ্ধির পেছনে শুল্ক সরাসরি দায়ী ছিল।
ফলে এখন প্রশ্ন একটাই—১৭৫ বিলিয়ন ডলারের এই সম্ভাব্য রিফান্ড আদায়ে কে কতটা সফল হবে? সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর বাণিজ্য ও আইনি অঙ্গনে নতুন এক অধ্যায় শুরু হয়েছে, যার প্রভাব পড়তে পারে করপোরেট আমেরিকা থেকে শুরু করে সাধারণ ভোক্তা পর্যন্ত।