পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়িয়ে ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে প্রায় ৪০টি আন্তঃসরকারি, আন্তঃসংস্থা ও করপোরেট নথিতে স্বাক্ষর করেছে চীন ও রাশিয়া।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বুধবার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক চলাকালে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এসব নথিতে স্বাক্ষর করেন।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, ক্রেমলিন থেকে পুতিন প্রশাসন এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য।
বিবৃতিতে জানানো হয়, গত বছর রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০ শতাংশ বেড়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ক্রমেই চীনা প্রযুক্তি ও উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে।
গত মাসে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যামেরিকায় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রযুক্তির ৯০ শতাংশের বেশি এখন চীনের মাধ্যমে আমদানি করছে রাশিয়া। ড্রোন উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত সামরিক ও দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ সংগ্রহে চীনা সরবরাহকারী ও মধ্যস্থতাকারীদের ব্যবহার করছে মস্কো।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের উচিত বর্তমান সহযোগিতার গতি বজায় রাখা এবং চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে রাশিয়ার ২০৩০ সাল পর্যন্ত উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় আরও জোরদার করা। একই সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা বাড়িয়ে উভয় দেশের উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবন ত্বরান্বিত করার কথাও বলা হয়েছে।
এদিকে ক্রেমলিন জানিয়েছে, বর্তমানে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে প্রায় সব আমদানি-রপ্তানি লেনদেন নিজেদের মুদ্রা রুবল ও ইউয়ানে সম্পন্ন হচ্ছে।
তাদের ভাষ্য, এর ফলে এমন একটি স্থিতিশীল বাণিজ্যব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, যা বৈশ্বিক বাজারের নেতিবাচক প্রভাব ও বাইরের চাপ থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত।