রুশ হামলা জোরদারের মধ্যেই ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জানাতে কিয়িভে পৌঁছেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্য। রবিবার (৪ অক্টোবর) প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির যেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করতে ইউক্রেইন সফরে যান তিনি। এ সময় শহরজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
জার্মান সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সফরে ইউক্রেইনকে ১.১৩ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা এবং দেশটির জ্বালানি খাতের মেরামতে আরো প্রায় ৩৯৪ মিলিয়ন ডলার একটি প্যাকেজ ঘোষণা করবেন মার্য। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ড্রোন যৌথভাবে উৎপাদনের একটি চুক্তিও চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
কিয়িভে পৌঁছে মার্য বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেেইনের সব ধরনের সহায়তা প্রয়োজন। রাশিয়াকে থামানো না হলে একসময় তাদের যুদ্ধযন্ত্র জার্মানির দিকেও ঘুরে আসতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
মার্যের সঙ্গে রয়েছেন অর্থনীতি ও জ্বালানি মন্ত্রী ক্যাথেরিনা রাইখে এবং সিমেন্স এনার্জি, হেনসোল্ট, ডিয়েল ডিফেন্স ও কোয়ান্টাম সিস্টেমসসহ জার্মান কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা।
ইউক্রেনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অংশীদারদের চাওয়া সংস্কার, বিশেষ করে দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপে অগ্রগতির জন্যও কিয়িভের ওপর চাপ দেওয়ার কথা রয়েছে মার্যের।
এর আগে যেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, জার্মানি ও ইউক্রেইন ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার উৎপাদনে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে রাশিয়ার উচ্চগতির জেটচালিত ড্রোন মোকাবিলায় অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি দ্রুত উৎপাদন।
এ ছাড়া ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার অস্ত্র যৌথভাবে উন্নয়ন ও উৎপাদনের বিষয়েও দুই দেশ কাজ করছে। এদিকে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রয়েছে। রোববার কিয়েভে চার দফা বিমান হামলার সতর্কতা জারি হয়। শহরের দিনিপ্রো নদীর ওপর নর্দার্ন ব্রিজে রুশ হামলায় সড়কপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো।