জ্বালানির দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর পর বাজারে সরবরাহ বাড়াতে ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়তে সম্মত হয়েছে জি-সেভেনভুক্ত শিল্পোন্নত দেশগুলো। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও বড় অঙ্কের ডিজেল তাদের জরুরি কৌশলগত মজুদ থেকে বিশ্ববাজারে ছাড়ার কথা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ডিজেল ছাড়ার প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সামাজিক মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইউরোপ বিপুল পরিমাণ মজুত করা ডিজেল তেল ছাড়তে সম্মত হয়েছে এবং প্রক্রিয়াটি অবিলম্বে শুরু হবে। কোন কোন দেশ কত পরিমাণ মজুত ছাড়বে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
ইরান যুদ্ধ ও ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যসংক্রান্ত পদক্ষেপের কারণে অ্যামেরিকায় তেলসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়েছে। আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের কারণে অ্যামেরিকা ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দামও বেড়েছে। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য এই ব্যয় প্রয়োজনীয়। যুদ্ধ শেষ হলে দাম কমবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
শুক্রবার অ্যামেরিকায় প্রতি গ্যালন ডিজেলের জাতীয় গড় দাম ছিল ৬ দশমিক ৩৭ ডলার। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর তা রেকর্ড ৬ দশমিক ৫২ ডলারে উঠেছিল। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ নিয়ে জি-৭-এর বর্তমান সভাপতি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে রাতভর কথা বলেন ট্রাম্প। পরে শুক্রবার ম্যাক্রোঁ জি-৭ নেতাদের নিয়ে এ বিষয়ে একটি ভিডিও সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।
একটি নতুন এপি-নোরসি জরিপে দেখা গেছে, বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং তার দল রিপাবলিকান পার্টিকে তীব্র জনরোষ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছিল। এমনকি আসন্ন নির্বাচনের আগে অর্থনীতির এই বেহাল দশার জন্য সাধারণ মানুষ ট্রাম্পকে দায়ী করছিল। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে একসঙ্গে এত তেল ছাড়ার সিদ্ধান্তের ফলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে। যেটিকে রিপাবলিকান পার্টি ও ট্রাম্পের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।