Skip to main content

২৯টি মুরগির ভাগ নিয়ে আদালতে দম্পতি, চাঞ্চল্যকর রায় বিচারকের

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৯ ২০২৫, ২০:৪৪

চীনের ওই দম্পতি ৫৩টি পাখি বড় করে, যার মধ্যে ২৯টি মুরগি, ২২টি হংসী ও দুটি হাঁস ছিল। ছবি: শাটারস্টক/সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

চীনের ওই দম্পতি ৫৩টি পাখি বড় করে, যার মধ্যে ২৯টি মুরগি, ২২টি হংসী ও দুটি হাঁস ছিল। ছবি: শাটারস্টক/সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

  • 0

কঠোর আইনি নিয়মে না থেকে বিচারক যে রায় দিয়েছেন, তার সঙ্গে মিল রয়েছে কনফুসিয়াসের ‘লি’ ধারণার। সে ধারণা অনুযায়ী, বিচ্ছেদের সময়ও বজায় রাখতে হবে সম্মান ও ভারসাম্য।

দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় চীনের এক গ্রামের দম্পতি সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নেন বিচ্ছেদের। এর আগে সম্পত্তির বণ্টন নিয়ে দ্বন্দ্ব নিরসনে দুজন দ্বারস্থ হন আদালতের। সে আদালতের বিচারক এমন এক রায় দেন, যা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এসসিএমপি শনিবার জানায়, বিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় থাকা দম্পতির মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয় ২৯টি মুরগির সমান ভাগ নিয়ে। তারা আদালতের দ্বারস্থ হলে বিচারক তাদের ১৪টি করে ২৮টি মুরগি নিতে বলেন। বিচ্ছেদ চূড়ান্ত করার আগে বাকি মুরগিটি খেয়ে ফেলার পরামর্শ দেন তিনি।

এসসিএমপির খবরে বলা হয়, বিচারকের এ রায় শুধু বাস্তবসম্মতই নয়, এটি একই সঙ্গে চীনের ঐতিহ্যবাহী প্রজ্ঞার প্রতিফলন, যার মূল প্রোথিত কনফুসিয়াসের দর্শনে।

কঠোর আইনি নিয়মে না থেকে বিচারক যে রায় দিয়েছেন, তার সঙ্গে মিল রয়েছে কনফুসিয়াসের ‘লি’ ধারণার। সে ধারণা অনুযায়ী, বিচ্ছেদের সময়ও বজায় রাখতে হবে সম্মান ও ভারসাম্য।

চীনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জিমু নিউজ জানায়, সিচুয়ান প্রদেশের একটি গ্রামের তু ডাকনামের এক নারী ও তার স্বামী ইয়াং সম্প্রতি বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করেন। এ দম্পতির মূল আয় আসে পোষা প্রাণী থেকে। যদিও ইয়াং মাঝে মাঝে অন্য কাজ করতেন।

নিজেদের নির্মিত বাড়িঘর ছাড়া এ দম্পতির বড় ধরনের সম্পত্তি ছিল না। তাদের বাড়ি ছিল ভিন্ন ভিন্ন গ্রামে। এর ফলে স্থানীয় বিধি অনুযায়ী, বাড়ির মালিকানার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তারা।

সমস্যাটা বাধে মুরগির বিভাজন নিয়ে। এ দম্পতি ৫৩টি পাখি বড় করেছে, যার মধ্যে ২৯টি মুরগি, ২২টি হংসী ও দুটি হাঁস রয়েছে।

হাঁসগুলো সমানভাবে বণ্টন করা গেলেও সমস্যা বাধে মুরগি নিয়ে। এ বিষয়ে উভয়ের মা-বাবার সঙ্গে কথা বলেন স্বামী ও স্ত্রী, কিন্তু তাতে কোনো সমাধান আসেনি। তাদের সন্তানরাও এ দ্বন্দ্বে নিজেদের জড়াতে চাননি।

শেষ নাগাদ বিষয়টি আদালতে গড়ালে তু বিচারকের উদ্দেশে বলেন, তিনি নিজে মুরগিগুলো বড় করেছেন এবং এগুলোর প্রতি তিনি মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ। এ কারণে একটি মুরগি বেশি প্রাপ্য তার।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ইয়াং বলেন, মুরগিগুলো লালন-পালনের পেছনে উল্লেখযোগ্য সময় ও শ্রম দিয়েছেন তিনি।

এসব শুনে বিচারক চেন কিয়ান বিচারপ্রার্থীদের সামনে দুটি বাছাই ঠিক করে দেন। এর একটি অতিরিক্ত মুরগিটি দুজনে মিলে খাওয়া। অন্যটি হলো যিনি একটি মুরগি বেশি নেবেন, তিনি অন্যজনকে ক্ষতিপূরণ দেবেন।

শেষ নাগাদ বিচারকের দেওয়া দুটি বিকল্পের প্রথমটি বেছে নেন দম্পতি। পরে আদালত থেকে ইলেকট্রিক বাইকে করে স্ত্রী তুকে নিয়ে বাড়িতে যান ইয়াং।

দম্পতির এ কাহিনি নিয়ে মন্তব্য করেছেন চীনের অনেক নাগরিক।

তাদের একজন বলেন, ‘বিচারক ন্যায্য সমাধান দিয়েছেন, তবে আসল ভুক্তভোগী হলো মুরগিটি।’

অন্য একজন বলেন, ‘হয়তো একসঙ্গে চিকেন স্যুপ খেয়ে দম্পতিটি আবার সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে এবং বিচ্ছেদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে।’