Skip to main content

এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার সংকট পূরণে গেমারদের দিকে ঝুঁকছে ট্রাম্প প্রশাসন

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১০ ২০২৬, ১৬:০০

এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার সংকট পূরণে গেমারদের দিকে ঝুঁকছে ট্রাম্প প্রশাসন
  • 0

অ্যামেরিকার ট্রান্সপোর্টেশন সেক্রেটারি শন ডাফি বলেন, নতুন প্রজন্মের কন্ট্রোলার তৈরি করতে হলে নিয়োগ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। তার মতে, গেমাররা এমন একটি বড় জনগোষ্ঠী, যাদের মধ্যে এই পেশার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক দক্ষতা আগে থেকেই রয়েছে।

অ্যামেরিকায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের দীর্ঘদিনের সংকট মোকাবিলায় নতুন কৌশল নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এবার নিয়োগের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে ভিডিও গেমারদের, যাদের দক্ষতা বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগতে পারে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএএ জানিয়েছে, হাজার হাজার শূন্যপদ পূরণে তারা নতুন নিয়োগ প্রচারণা শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে একটি ইউটিউব বিজ্ঞাপনে গেমারদের আকৃষ্ট করতে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক গ্রাফিক্স এবং উচ্চ বেতনের প্রলোভন।

যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে, গেমারদের রয়েছে

  • দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা
  • জটিল পরিস্থিতিতে কাজ করার দক্ষতা
  • দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখার সক্ষমতা

অ্যামেরিকার ট্রান্সপোর্টেশন সেক্রেটারি শন ডাফি বলেন, নতুন প্রজন্মের কন্ট্রোলার তৈরি করতে হলে নিয়োগ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। তার মতে, গেমাররা এমন একটি বড় জনগোষ্ঠী, যাদের মধ্যে এই পেশার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক দক্ষতা আগে থেকেই রয়েছে।

অ্যামেরিকায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার সংকট চলছে। ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে পূর্ণ সক্ষমতার জন্য যেখানে ১৪,৬৬৩ জন কন্ট্রোলার প্রয়োজন, সেখানে বর্তমানে রয়েছে প্রায় ১১,০০০ জন। যদিও ২০২৪ সালের পর থেকে কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবুও ঘাটতি রয়ে গেছে কয়েক হাজারের।

এই সংকটের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে—

  • দীর্ঘ প্রশিক্ষণ সময়
  • উচ্চ হারে প্রশিক্ষণ থেকে বাদ পড়া
  • অভিজ্ঞ কর্মীদের অবসর

এফএএ জানায়, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়সীমা কমিয়ে প্রায় অর্ধেকে আনা হয়েছে— আগে যেখানে ১৩ মাস লাগত, এখন তা কমে সাড়ে ৬ মাসে নামানো হয়েছে। এছাড়া প্রশিক্ষণে বাদ পড়ার হারও কিছুটা কমেছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু গেমিং অভিজ্ঞতা দিয়ে পুরো সংকট সমাধান সম্ভব নয়। সাবেক এফএএ কর্মকর্তা মাইকেল ও’ডনেল বলেন, গেমারদের কিছু দক্ষতা থাকলেও চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া, শৃঙ্খলা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, নতুন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কন্ট্রোলারদের বড় অংশই গেমার। এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় সব শিক্ষার্থীই কোনো না কোনোভাবে গেমিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। এই প্রেক্ষাপটে এফএএ এখন কলেজভিত্তিক নিয়োগের চেয়ে গেমারদের লক্ষ্য করে নিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, গেমারদের নিয়োগ দেওয়া একটি উদ্ভাবনী পদক্ষেপ হলেও এটি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার সংকটের পূর্ণ সমাধান নয়।

তবে দ্রুত নিয়োগ ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে— বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন বিমান চলাচলের নিরাপত্তা সরাসরি নির্ভর করছে পর্যাপ্ত দক্ষ কন্ট্রোলারের ওপর।

সব মিলিয়ে, ডিজিটাল প্রজন্মকে কাজে লাগিয়ে সংকট মোকাবিলার এই উদ্যোগ অ্যামেরিকার নিয়োগনীতিতে একটি নতুন ধারা তৈরি করতে পারে।