বিশ্বের দুই প্রধান পরাশক্তি চীন ও অ্যামেরিকার সম্পর্ককে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বেইজিংয়ের গ্রেইট হল অব দ্য পিপলে বৃহস্পতিবার এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্বের দুই প্রভাবশালী নেতা সাক্ষাতে একথা বলেন শি। দীর্ঘ এক দশকের মধ্যে প্রথম কোনো অ্যামেরিকান প্রেসিডেন্ট হিসেবে চীন সফরে আসা, ডনাল্ড ট্রাম্পকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান শি জিনপিং।
ভোজসভার ভাষণে শি জিনপিং স্পষ্ট করে বলেন, চীন ও অ্যামেরিকার লক্ষ্যগুলো পরস্পরবিরোধী নয় বরং পরিপূরক। তিনি বলেন, “চীনের পুনর্জাগরণ এবং অ্যামেরিকাকে আবার মহান করে তোলার লক্ষ্য; উভয়ই কোনো সংঘাত ছাড়াই সমান্তরালভাবে চলতে পারে।” শি আরো বলেন, “চীন-অ্যামেরিকা সম্পর্ক বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। আমাদের অংশীদার হওয়া উচিত, প্রতিপক্ষ নয়। কারণ এই সম্পর্কের ওপর বিশ্বের ৮ বিলিয়ন মানুষের স্বার্থ জড়িয়ে আছে।”
এই রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় উপস্থিত ছিলেন অ্যাপল-এর সিইও টিম কুক, এনভিডিয়া-র সিইও জেনসেন হুয়াং এবং টেসলা-র সিইও ইলন মাস্কের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এর আগে চীনের প্রিমিয়ার লি ছিয়াং-এর সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা করেন তারা।
দিনের শুরুর দিকে চীনা প্রতিনিধি দলের সাথে এই বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক এবং ফলপ্রসূ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি আরো বলেন, আলোচনার সুযোগ পাওয়া ছিল একটি কাঙ্খিত বিষয়, যা অ্যামেরিকা এবং চীন; উভয় দেশের জন্যই মঙ্গলজনক।
এসময় দুই দেশের ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
দুই নেতার এই বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান এবং পারস্পরিক জয়ের মানসিকতা বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকরা। বেইজিংয়ের এই বৈঠক এখন কেবল দুই দেশের নয়, বরং পুরো বিশ্বের মনোযোগের কেন্দ্রে।