রহস্যময় এক ভাইরাসের আতঙ্কে কাঁপছে ইউরোপ। আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসমান একটি বিলাসবহুল ক্রুয শিপে প্রাণঘাতী 'হান্টাভাইরাস' সংক্রমণে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ১৫০ আরোহী নিয়ে জাহাজটি এখন স্পেইনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে এগুচ্ছে। কিন্তু কোভিড মহামারীর দুঃসহ স্মৃতি মনে করে স্থানীয় বাসিন্দারা এই জাহাজটি বন্দরে ভেড়ানোর তীব্র বিরোধিতা করছেন। এমনকি আঞ্চলিক সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যেও তৈরি হয়েছে দ্বন্দ্ব।
বিলাসবহুল ক্রুয শিপ 'এমভি হোন্ডিয়াস'। পর্যটকদের আনন্দ ভ্রমণের জন্য যাত্রা শুরু করলেও এখন এটি এক ভাসমান মৃত্যুপুরী। গত কয়েক দিনে এই জাহাজে হান্টাভাইরাস সংক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন দুই ডাচ এবং এক জার্মান নাগরিক। কেইপ ভার্দে উপকূলের কাছে দিনভর আটকে থাকার পর জাহাজটি এখন স্পেইনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের তেনেরিফে বন্দরের দিকে রওনা হয়েছে।
তবে এই খবরে স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে চরম আতঙ্ক। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা মনে করছেন, এই জাহাজটি ভেড়াতে দেয়া মানেই আবারও কোভিডের মতো পরিস্থিতি ডেকে আনা।
এদিকে স্পেইনের কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, তেনেরিফের একটি অপেক্ষাকৃত কম জনবহুল বন্দরে জাহাজটি নোঙর করবে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর পর সব যাত্রীকে পরীক্ষা করা হবে এবং বিদেশি পর্যটকদের নিজ নিজ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
তবে শুধু সাধারণ মানুষই নন, ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের আঞ্চলিক প্রধান ফার্নান্দো ক্লাভিজোও এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি এই পদক্ষেপকে 'অযৌক্তিক' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “যদি যাত্রীরা সুস্থই থাকেন, তবে তাদের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে আসার কী দরকার? তারা কেপ ভার্দে বিমানবন্দর থেকেই নিজ দেশে ফিরতে পারতেন। আমাদের জানানো হয়নি কেন এই ঝুঁকি নেয়া হচ্ছে। সংক্রমণের মাত্রা বা ভাইরাসের ধরন সম্পর্কে আমাদের কাছে পরিষ্কার কোনো তথ্য নেই।”
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এটি হান্টাভাইরাসের 'আন্দিয়ান' স্ট্রেন, যা বিরল ক্ষেত্রে মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। জাহাজের ভেতরের পরিস্থিতি বর্ণনা করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মার্টিন ক্রিজ।