ভোক্তাদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি খতিয়ে দেখতে অ্যানথ্রপিক, ওপেনএআইসহ শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে অ্যামেরিকার ফেডারেল ট্রেড কমিশন বা এফটিসি। বুধবার রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
সংস্থাটির এই উদ্যোগকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই ব্যবস্থা নিয়ে অ্যামেরিকার প্রথম আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে এআই ব্যবস্থা বিভিন্ন কাজ করার একাধিক ঘটনা সামনে আসার পর ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এফটিসি শীর্ষস্থানীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চাইবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহীদের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলবও করা হতে পারে। তদন্তের আওতায় অ্যানথ্রপিক, ওপেনএআই এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমইটিআর রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
এফটিসির চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন গত সপ্তাহে বলেছিলেন, সাইবার নিরাপত্তা নিরীক্ষণের অংশ হিসেবে কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থাকে এমন নির্দেশ দিলে সাইবার হামলা বা অন্য কোনো ক্ষতি যদি হয়, সেই ক্ষতির জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে দায়ী করা হতে পারে।
এফটিসির এই উদ্বেগ অবশ্য ওপেনএআইয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা হাগিং ফেসে হামলা চালানোর আগেই ছিল। তবে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওপেনএআইয়ের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাগুলো প্রথমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক কোডিং প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসের দুর্বলতা খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। পরে সেখানে বড় ধরনের হামলা চালানোর ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে এফটিসির তৎপরতা আরও বাড়ে।
এদিকে অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সকে কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি। নিউইয়র্ক পোস্ট প্রথম এফটিসির তদন্তের খবর প্রকাশ করে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ঝুঁকি নিয়ে এমন সময়ে অ্যামেরিকার নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্ত শুরু হলো, যখন প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহীরা স্বেচ্ছামূলক নিরাপত্তা মানদণ্ড তৈরিতে সম্মত হয়েছেন।
ওই সমঝোতায় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীন নিরীক্ষকদের সঙ্গে কাজ করে তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নির্মাতাদের নির্ধারিত উপায়ে কাজ করছে কি না, তা যাচাই এবং ব্যবস্থাগুলো যাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে সাইবার ব্যবস্থা ভেদ বা প্রবেশ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার কথা বলেছে।
তবে এ বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থানে নিয়ন্ত্রণ ও প্রযুক্তিগত অগ্রাধিকারের মধ্যে একটি পার্থক্য রয়েছে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কাকে বারবার ‘ভিত্তিহীন প্রচারণা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং প্রযুক্তিতে অ্যামেরিকার আধিপত্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কোনো ক্ষতি হলে বিদ্যমান আইন ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।