বাংলাদেশি সেনাকে সম্মানিত করল ফরাসি সরকার

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬ ২০২৫, ১০:২০ হালনাগাদ: ডিসেম্বর ২৯ ২০২৫, ৬:৫১

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম। ছবি: আইএসপিআর

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম। ছবি: আইএসপিআর

  • 0

আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা অপারেশনে তার এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ফরাসি সরকার তাকে উক্ত সম্মাননা প্রদান করেছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত মান্যবর ফরাসি রাষ্ট্রদূত জনাব জঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট তার বাসভবনে গত মঙ্গলবার এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, এএফডব্লিউসি, পিএসসি-কে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানসূচক ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স মেডেল – গোল্ড লেভেল’ প্রদান করেন।

তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই সম্মানসূচক পদক গ্রহণ করেন। আইএসপিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজহার ২০২২–২০২৩ সময়কালে কর্নেল পদে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (এমআইএনইউএসএমএ) এর ফোর্স হেডকোয়ার্টারে ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ (সাপোর্ট) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময় তিনি বিভিন্ন দেশের ১৩,০০০-এরও বেশি শান্তিরক্ষীর লজিস্টিকস ও সাপোর্ট কার্যক্রম দক্ষভাবে সমন্বয় করেন।

২০২২ সালে ফরাসি বাহিনীর ‘বারখান’ অভিযান মালি থেকে পার্শ্ববর্তী নাইজার ও চাদে পুনর্বিন্যাসের ফলে মালির উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি ক্যাম্পের দায়িত্ব জাতিসংঘ মিশনের উপর ন্যস্ত হয়। এ জটিল এবং সংবেদনশীল পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজহারের নেতৃত্বাধীন লজিস্টিকস টিম নিরলসভাবে কাজ করে ফরাসি কন্টিনজেন্টের নিরাপদ প্রস্থান এবং জাতিসংঘ সদস্যদের সুবিন্যস্ত মোতায়েন নিশ্চিত করে।

পরবর্তীতে, ২০২৩ সালে মালি থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হলে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে তার নেতৃত্বাধীন লজিস্টিকস টিমের পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা, দলগত সমন্বয় এবং সূক্ষ্ম পরিকল্পনার ফলে সকল জাতিসংঘ সদস্য ও তাদের ব্যবহৃত অস্ত্র-সরঞ্জামাদি নিরাপদে প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়।

আইএসপিআর এর বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা অপারেশনে তার এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ফরাসি সরকার তাকে উক্ত সম্মাননা প্রদান করেছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজহার একজন অভিজ্ঞ শান্তিরক্ষী হিসেবে সুদান, আইভরি কোস্ট, সোমালিয়া এবং সর্বশেষ মালিসহ বিভিন্ন দেশে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।