শিক্ষার মান উন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, শিক্ষাখাতে অর্থায়ন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে ফ্রান্সে দুই সপ্তাহ ধরে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর দেশটির রাজধানী প্যারিস ও আশেপাশের এলাকায় শুরু হওয়া আন্দোলনটি দেশজুড়ে বিভিন্ন বড় বড় শহরগুলোতেও এখন ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিক্ষোভটিতে যোগ দিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবকসহ দেশটির প্রধান প্রধান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।
বিক্ষোভটি শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের পদত্যাগের দাবিতে গড়ালে কাঁদানে গ্যাস ছোড়াসহ আন্দোলনরত হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে ইতোমধ্যে আটক করেছে পুলিশ।
সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স২৪ এর নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আজ মঙ্গলবার বিক্ষোভটি সবচেয়ে বড় আকার ধারণ করেছে।
ফ্রান্সজুড়ে বিভিন্ন শহরের সড়কে শিক্ষার্থীদের সমর্থনে লাখ লাখ মানুষকে মিছিলে জড়ো হতে দেখা গেছে। জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবার-সিজিটি ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, প্যারিস বাদে ফ্রান্সের অন্যান্য শহরগুলোতেই আজ প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন।
সেইসঙ্গে দেশজুড়ে ৩ হাজার ৭০০টি হাইস্কুলের ভিতর ৮৯১টি স্কুলে আংশিক বা পুরোপুরি ক্লাস অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় অনলাইন পাঠ্যক্রম চালু হলে শিক্ষার্থীদের দ্বারা ইন্টারনেট-ব্লকেডের ফলে এ কার্যক্রমও ব্যহত হচ্ছে।
এদিকে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আজ বিভিন্ন শহরে জলকামান ব্যবহার করতে দেখা গেছে। দেশটির মানবাধিকারকর্মীদের ভাষ্য, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা হচ্ছে। চলমান আন্দোলনের তীব্রতা ও শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর শেষ মেয়াদে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষার্থী আন্দোলন সামাল দেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের বেশ কয়েকটি দাবিকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছেন ম্যাক্রোঁ। তবে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের কোনো সহিংস আচরণ মেনে নেওয়া হবেনা বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।