প্রাণীবাহিত বিরল হান্টাভাইরাস সংক্রমিত ডাচ প্রমোদতরী থেকে ফেরত আসা অ্যামেরিকান নাগরিকদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়নি। তবে দেশে সম্ভাব্য সংক্রমণ এড়াতে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অ্যারিজোনা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ সার্ভিসেস জানিয়েছে, তারা জাহাজের একজন যাত্রীকে পর্যবেক্ষণ করছে।
একই সঙ্গে জর্জিয়া ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ বলেছে, তারা প্রমোদতরী থেকে ফিরে আসা দুই যাত্রীকে পর্যবেক্ষণ করছে।
পর্যবেক্ষণে থাকা যাত্রীদের কেউ সংক্রমিত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে উভয় স্টেইটের কর্তৃপক্ষ।
পরে সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি জানিয়েছে, ভাইরাস থেকে সৃষ্ট রোগটি এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তির মধ্যে ছড়ানোর ঝুঁকি আছে। তবে অ্যামেরিকানদের মধ্যে এখন এ রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কম।
বুধবার সন্ধ্যায় এ সংক্রান্ত এক সরকারি বিবৃতিতে সিডিসি আরও জানায়, আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো প্রমোদতরীতে থাকা অ্যামেরিকান যাত্রীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
স্টেইট ডিপার্টমেন্ট যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, কূটনৈতিক সমন্বয় এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ সমন্বিত প্রতিক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানায়, পহেলা এপ্রিল আর্জেন্টিনা থেকে রওনা দেওয়া এমভি হন্ডিউস নামের একটি প্রমোদতরী যাত্রা শুরুর পরপর ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয় এবং একজন যাত্রী মারা যান।
মৃত্যুর কারণ পর্যবেক্ষণের পর ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন- ডব্লিউএইচও গত ৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, জাহাজটি বিপজ্জনক হান্টাভাইরাস সংক্রমিত।
ইতোমধ্যে জাহাজে থাকা ৫ যাত্রী ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, প্রমোদতরীতে প্রায় ১৫০জন যাত্রী আছেন, যারা প্রত্যেকেই এখন বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে আছেন। এদের মধ্যে ১৭ জন আছেন অ্যামেরিকান যাত্রী। সংক্রমিত জাহাজে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা।
বর্তমানে আফ্রিকার উপকূলবর্তী কেপ ভার্দে অঞ্চল থেকে জাহাজটি ক্যানারি দ্বীপাঞ্চলের পথে আছে।
হান্টাভাইরাস সম্পর্কে কিছু তথ্য
এটি মূলত ইঁদুর জাতীয় প্রাণীবাহিত রোগ। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, ইঁদুরের শুকিয়ে যাওয়া মলমূত্র বা লালা থেকে বাতাসে ভেসে আসা ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে এটি মানুষের দেহে প্রবেশ করে।
বিরল ক্ষেত্রে ইঁদুরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে। তবে এটি ছোঁয়াচে নয়।
এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রাথমিকভাবে জ্বর, ক্লান্তি, মাথা ঝিমুনির মতো লক্ষণ দেখা যায়। পরে শ্বাসকষ্ট হলে মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে।
সংক্রমণ মারাত্মক হলে কিডনি জটিলতা, এমনকি অকেজো হয়ে যেতে পারে।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, হান্টাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির খুব কাছাকাছি না আসলে এটি অন্যকে আক্রান্ত করে না।
সংস্থাটি নিশ্চিত করে বলেছে, এটি ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে আলাদা। কিন্তু এটি করোনার মতো মহামারী নয়, কেবল একটি প্রাদুর্ভাব।