কোন কথার জেরে জিমি কিমেলের শো বন্ধ?

টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯ ২০২৫, ১৭:২৭ হালনাগাদ: মার্চ ১৭ ২০২৬, ১২:১৭

‘জিমি কিমেল লাইভ’ নামের শোর উপস্থাপক জিমি কিমেল। ছবি: রয়টার্স
- 0
কিমেলের মন্তব্যে শুরু হয় তোলপাড়। রক্ষণশীলদের তীব্র সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হন এ উপস্থাপক।
রক্ষণশীল অ্যাকটিভিস্ট চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্যের পর টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এবিসি অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘Jimmy Kimmel Live!’ নামের শো বন্ধ করেছে।
এ সিদ্ধান্ত এখন অ্যামেরিকায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক চাপ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে গভীর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
গত সোমবারের শোতে জিমি কিমেল রিপাবলিকানদের সমালোচনা করে বলেন, ‘MAGA gang মরিয়া হয়ে চার্লি কার্ককে হত্যা করা ছেলেটিকে তাদের বাইরের লোক হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে। আর সে ঘটনার সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ে তারা সবকিছুই করছে।’
এর মানে হলো ট্রাম্প সমর্থকরা হত্যাকারীকে নিজেদের অংশ না দেখাতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে এবং এ ঘটনাকে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
কিমেলের এ মন্তব্যে শুরু হয় তোলপাড়। রক্ষণশীলদের তীব্র সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হন এ উপস্থাপক।
দুই দিনের মাথায় এবিসি ঘোষণা দেয়, শোটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
উদার মহলের তীব্র প্রতিক্রিয়া
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম কিমেলের শো বাতিলকে রিপাবলিকানদের পরিকল্পিত ‘সেন্সরশিপ’ আখ্যা দিয়েছেন।
কানেটিকাটের সিনেটর ক্রিস মারফি ভিডিওবার্তায় সতর্ক করেছেন, ডনাল্ড ট্রাম্প চার্লি কার্কের হত্যাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।
Pod Save America পডকাস্টের টমি ভিয়েটর বলেন, ‘যদি কিমেল কোনো তথ্যগত ভুল করে থাকেন, তিনি তা সংশোধন করতে পারতেন, কিন্তু শো বন্ধ করা পুরোপুরি অতিরঞ্জন।’
বামপন্থি স্ট্রিমার হাসান পাইকার অভিযোগ করেন, করপোরেশনগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে মুহূর্তের মধ্যেই আত্মসমর্পণ করছে।
হলিউডে কিমেলের স্টুডিওর সামনে কিছু মানুষ বিক্ষোভও করেছেন। তাদের মধ্যে তরুণ নিকোলাস স্কুটি বলেন, এখন যদি তারা প্রতিবাদ না জানান, ভবিষ্যতে কথা বলার সুযোগ আরও সীমিত হবে।
রক্ষণশীল বিশ্লেষক মার্ক লেভিন মন্তব্য করেন, কিমেলকে ‘অনেক আগেই সরানো উচিত ছিল’।
ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক মেগান কেলি বলেন, নিশ্চয়ই দর্শকদের বিপুল প্রতিক্রিয়া পেয়েছে এবিসি। সে কারণে এত দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র কিমেলকে ‘লজ্জার কারণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে সফরের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিজে লিখেন, ‘অ্যামেরিকার জন্য মহান সংবাদ।’
তার ভাষ্য, কিমেলের কোনো প্রতিভা নেই।
সরকারি চাপ নিয়ে বিতর্ক
ঘটনাটি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন জানা যায়, এফসিসি চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিমেলের মন্তব্যের কারণে নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত হতে পারে।
ফক্স নিউজ বিশ্লেষক ব্রিট হিউম সতর্ক করে বলেছেন, প্রাইভেট কোম্পানি কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে, কিন্তু সরকারি এজেন্সি যদি এতে জড়ায়, তাহলে সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
রাতের শোগুলোতে ট্রাম্প বিরোধিতা
মাত্র দুই মাস আগেই CBS আর্থিক কারণ দেখিয়ে ‘The Late Show With Stephen Colbert’ বাতিল করেছে, কিন্তু যেহেতু কোলবেয়ারও কিমেলের মতো ট্রাম্পের কড়া সমালোচক ছিলেন, উদারপন্থি মহল মনে করছে, এটি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ফল।
কিমেল ও কোলবেয়ার অনেকবার তাদের শোতে রিপাবলিকান পার্টি ও ট্রাম্পকে নিয়ে কৌতুক ও সমালোচনা করেছেন। এর ফলে লেট-নাইট টকশো ধীরে ধীরে অ্যামেরিকার রাজনৈতিক সংস্কৃতি যুদ্ধের নতুন সম্মুখ সমরক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
উদারপন্থিরা মনে করেন, কিমেলকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে শুধু ট্রাম্পের সমালোচনা করায়।
রক্ষণশীলদের মতে, কিমেল সীমা অতিক্রম করেছেন এবং তিনি প্রাপ্য শাস্তিই পাচ্ছেন।
এ ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, অ্যামেরিকা গভীরভাবে বিভক্ত, যেখানে রাতের একটি শো নিয়ে সিদ্ধান্তই পুরো জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে তুলতে পারে।
