সংযুক্ত আরব আমিরাত-ইউএই থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাই দুবাই বিমানের একটি ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা ও বিমান ধ্বংস প্রচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে পূর্বে চরমপন্থী মতাদর্শের অভিযোগ ছিল বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে ওমান এয়ারলাইন্সে কাজ করার সময় সন্দেহভাজনকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় সাময়িকভাবে তার ওপর উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানায়, ইউএইর উর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছে এসব তথ্য।
ঘটনাটির তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ফ্লাই দুবাই বিমানে হামলাকারী ওই সহ-পাইলট হলেন ২৯ বছর বয়সী হামাম আল হাম্মামি। তিনি ওমানের নাগরিক।
গত বুধবার ফ্লাইট এফজেড ১০৭৩ দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশ্যে রওনা হলে মাঝ আকাশে ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন ভারতীয় নাগরিক স্মিথকে ছুরিকাঘাত ও বিমানটি ধ্বংসের চেষ্টা করেন হাম্মামি।
ইউএইর অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি শনিবার এক বিবৃতিতে জানান, ফ্লাইট চলাকালীন হামলাকারী স্মিথের মাথায় কুড়াল দিয়ে আঘাত করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ভুক্তভোগী ক্যাপ্টেনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও বিমানের যাত্রীদের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত তিনি ব্যর্থ হন। তবে ওই হামলাকারীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্য ছিল।
সূত্র আরও জানায়, ২০২৩ সালে ব্রিটেনের বাকিংহামশায়ার ইউনিভার্সিটিতে ৩ বছরের একটি দূরশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করে অ্যাভিয়েশন ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি অর্জন করেন হাম্মামি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন তিনি কোনো পাইলট প্রশিক্ষণ নেননি।
পরে ২০২৪ সালে ওমান এয়ারলাইন্সে শিক্ষানবিশ সহ-পাইলট হিসেবে যোগ দেন । ওই সময় তার বিরুদ্ধে চরমপন্থী মনোভাবের অভিযোগ উঠলে হাম্মামিকে উড্ডয়নে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনিক দপ্তরে স্থানান্তুর করা হয়।
পূর্বে স্পর্শকাতর অভিযোগ ও স্বল্প প্রশিক্ষণ থাকার পরও হামলাকারী কীভাবে ইসরায়েলগামী একটি ফ্লাইটের সহ-পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পেলেন- বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
এদিকে, বিমানে হামলার শিকার ভুক্তভোগী এক যাত্রী শোটা মুসায়েভ জানান, বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ ও ধরা পড়ার পর হামলাকারী ককপিটের বাইরে আহত অবস্থায় পড়েছিলেন। ওই সময় তিনি বারবার বলছিলেন, ‘দয়া করে আমাকে মেরে ফেলুন, দয়া করে আমাকে মেরে ফেলুন।‘
অভিযুক্তের আচরণ ও হামলার ঘটনার জের ধরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, সন্দেহভাজন উগ্রবাদী ইসলামি মতাদর্শে প্রভাবিত ছিল।
অন্যদিকে, ২-৩ বছর আগে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া হাম্মামির বিভিন্ন পোস্ট নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। ৩০০০ হাজারেরও বেশি এসব পোস্টে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ পোস্টের বক্তব্যই ছিল রক্ষণশীল ও নারীবিদ্বেষি।
সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অযিযু্ক্ত হাম্মামিকে বর্তমানে ইউএইতে আটক রাখা হয়েছে। তার নিয়োগ প্রক্রিয়া, অতীত কর্মকাণ্ড সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ইউএইর সঙ্গে যুক্ত আছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। হামলার উদ্দেশ্য ও বিস্তারিত পরে প্রকাশ করা হবে।