ট্রাম্পের প্রস্তাবের পর ব্রাজিল ছেড়ে পরিবার নিয়ে মায়ামিতে ফ্লাভিও বলসোনারো
- 0


প্রকাশিত: অক্টোবর ২৮ ২০২৬, ১৬:৩৭
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে আমেরিকার মায়ামিতে পৌঁছেছেন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। অর্থপাচারের তদন্তের মধ্যে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে দেশ ছাড়েন তিনি। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তাঁর আমেরিকায় প্রবেশের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং ট্রাম্প প্রশাসন বলসোনারো ও তাঁর পরিবারের জন্য প্রবেশ ভিসা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ঘটনাটি ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাভিও বলসোনারো মঙ্গলবার রাতে আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেন। পরে একটি ব্যক্তিগত বিমানে ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিল হয়ে বুধবার মায়ামির ওপা-লকা এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি ও তাঁর পরিবার। তাঁদের যাত্রাপথের বিষয়ে শুরুতে অনিশ্চয়তা থাকলেও বিমান চলাচলের তথ্য এবং রয়টার্সের ভিডিওতে তাঁদের মায়ামিতে পৌঁছানোর বিষয়টি উঠে আসে।
নির্বাচনে পরাজয়, পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফ্লাভিও বলসোনারো রোববার বামপন্থি বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন। এরপর দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। অর্থপাচার-সংক্রান্ত একটি তদন্তের অংশ হিসেবে দেওয়া ওই নির্দেশের পেছনে দেশ ছাড়ার আশঙ্কার বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফ্লাভিও অবশ্য তদন্তে কোনো অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এর আগে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশের পর ফ্লাভিও বলেছিলেন, দেশ ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা তাঁর নেই। তিনি আদালতের পদক্ষেপকে ভয় দেখানোর চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করে দেশে থেকেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মোকাবিলা করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর আমেরিকা যাত্রা সেই বক্তব্যের সঙ্গে স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছে।
ফ্লাভিও বলসোনারোর সিনেটর হিসেবে দায়মুক্তির মেয়াদ ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের প্রেক্ষাপটে দেশত্যাগের ঘটনাটি আইনি ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ। তবে তদন্তে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা কিংবা দেশত্যাগের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
ট্রাম্পের সমর্থন, লুলার অভিযোগ
ফ্লাভিও বলসোনারোর আমেরিকায় প্রবেশের বিষয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। ট্রাম্প এর আগে ফ্লাভিওর বাবা, ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে দেশটির বিচারব্যবস্থার রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার বলে মন্তব্য করেছিলেন।
অন্যদিকে, লুলা অভিযোগ করেছেন, বলসোনারো পরিবারকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে ওয়াশিংটন সহযোগিতা করছে। রয়টার্স এর আগে বলসোনারোদের রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত করার লক্ষ্যে স্টেইট ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ফলে ফ্লাভিওর আমেরিকা যাত্রা দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে বিদ্যমান সন্দেহ ও অবিশ্বাস আরও বাড়াতে পারে।
তবে ফ্লাভিওর ভিসা পাওয়া বা আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়াকে এককভাবে ব্রাজিলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের প্রমাণ হিসেবে দেখানো যায় না। ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে লুলার অভিযোগ এবং আমেরিকান প্রশাসনের সিদ্ধান্ত—দুটি বিষয়ই আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
জাইর বলসোনারোর আগের নজির
ফ্লাভিওর বাবা জাইর বলসোনারোও ২০২২ সালে লুলার কাছে নির্বাচনে পরাজয়ের পর আমেরিকায় গিয়েছিলেন। পরে তিনি ব্রাজিলে ফিরে আসেন। দেশটির সরকারি ভবনে তাঁর সমর্থকদের হামলার পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে তাঁকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
বাবা ও ছেলের ঘটনাগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক মিল থাকলেও, দুই সময়ের আইনি পরিস্থিতি এক নয়। তাই আগের ঘটনাকে ফ্লাভিওর বর্তমান মামলার ফলাফল বা ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা সমীচীন হবে না।
সামনে কী অপেক্ষা করছে?
ফ্লাভিও বলসোনারোর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ব্রাজিলের রাজনৈতিক বিরোধ, চলমান তদন্ত এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক—তিনটি ক্ষেত্রেই নতুন প্রশ্ন তুলছে। ব্রাজিলের কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেবে, আমেরিকায় তাঁর অবস্থান কতটা দীর্ঘ হবে এবং দুই দেশের সরকার এই ঘটনা নিয়ে কীভাবে যোগাযোগ করবে—এসব বিষয় এখন গুরুত্বপূর্ণ।
