নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল বার্ষিক ১০ লাখ ডলার আয় করা ধনী ব্যক্তি ও বড় করপোরেশনগুলোর ওপর কর বৃদ্ধি না করলে বাজেট ঘাটতি কমাতে সম্পত্তি কর বাড়ানোর প্রস্তাব জানিয়েছেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোরান মামদানি।
আইউইটনেস নিউজ জানায়, সিটির বাজেটে ৭ বিলিয়ন ডলার ঘাটতি কমাতে এ প্রস্তাব জানান তিনি।
মামদানি মঙ্গলবার এক বক্তব্যে বলেন, ‘যদি আমরা মিলিয়নার্স ট্যাক্স আরোপ না করি, তাহলে শহরকে আরও ক্ষতিকর পথে হাঁটতে হবে।
‘অন্য কোনো উপায় না থাকলে আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন একমাত্র রাজস্ব উৎস তথা আমাদের সম্পত্তি কর বাড়াতে হবে।’
তবে মামদানির এ প্রস্তাবে অসম্মতি জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিল, হোকুল ও সিটির বিভিন্ন পদে নেতৃত্বাধীন কর্মকর্তারা।
কুইন্স বোরোর প্রেসিডেন্ট ডনভান রিচার্ডস বলেন,’ এ প্রস্তাবের আগে ইতোমধ্যে প্রান্তিক পর্যায়ে থাকা সিটির বয়োজেষ্ঠ্য বাসিন্দাদের কথা ভাবুন।
‘আমাদের ইতোমধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা সমস্যায় ভুগছি। মানুষ এ নিয়ে সংগ্রাম করছে, এর ভিতর সম্পত্তি কর বৃদ্ধি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
সিটিজেনস বাজেট কমিশনের কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু রেইন বলেন, নিউ ইয়র্কাদের জীবনমান উন্নয়নে খুব বেশি দরকারি নয় এমন সব খাত থেকে মামদানি খরচ কমাতে পারেন।
‘এদিকেই তার মনোযোগ দেওয়া উচিৎ, সম্পদের কর বৃদ্ধিতে নয়।’
তবে সিটির কোনো সেবাখাতের তহবিল কমাতে অসম্মতি জানিয়েছেন মামদানি। বিপরীতে সিটির তুষার অপসারণ, গৃহহীনদের সহায়তা ও মানসিক অসুস্থায় আক্রান্ত বাসিন্দাদের জন্য আরও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনার কথা জানান মেয়র।
অন্যদিকে সম্পদের কর বৃদ্ধির প্রস্তাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হোকুল বলেন, ‘আমি সম্পদের কর বৃদ্ধির পক্ষে নেই, এটি প্রয়োজনীয় বলেও আমি মনে করি না।’
হোকুল জানান, নতুন অর্থবছর জুলাই মাসের আগে শুরু হবে না। ততদিন পর্যন্ত সিটি কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা চলবে।
নিউ ইয়র্ক সিটিতে সর্বশেষ সম্পত্তি কর বৃদ্ধি পেয়েছিল ২৩ বছর আগে তৎকালীন ব্লুমবার্গ প্রশাসনের সময়।
নতুন করে কর বৃদ্ধি করলে সিটি কাউন্সিলের বিরোধের মুখে পড়তে পারেন মামদানি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কাউন্সিল স্পিকার জুলিয়ে মেনিন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যখন নিউইয়র্কবাসী ইতোমধ্যেই জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটে ভুগছে, তখন বড় ধরনের সম্পত্তি কর বৃদ্ধি কোনোভাবেই বিবেচনায় থাকা উচিত নয়।
‘ছোট সম্পত্তির মালিক ও পাড়ার ছোট ব্যবসার ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার আগে সাশ্রয় ও বিকল্প রাজস্বের আরও ক্ষেত্র খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।‘
মামদানির প্রস্তাব অনুযায়ী সিটিতে সম্ভাব্য কর বৃদ্ধি পেতে পারে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, যার প্রভাব পড়তে পারে ৩০ লাখের বেশি আবাসিক ইউনিট ও এক লাখের বেশি বাণিজ্যিক ভবনের ওপর।