ভারতের মহারাষ্ট্রের সাতারা এলাকায় ২৬ বছর বয়সী নারী ডাক্তারের আত্মহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশের উপপরিদর্শক-এসআইসহ অন্যদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর বাবা।
এনডিটিভি জানায়, রাজ্যের ফলতান সরকারি হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ছিলেন ওই চিকিৎসক। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
এর আগে হাতের তালুতে লেখা বার্তায় এসআইয়ের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন এবং প্রযুক্তি পেশায় নিয়োজিত একজনের বিরুদ্ধে মানসিক হয়রানির অভিযোগ করেন ওই ডাক্তার।
মেয়ের আত্মহত্যার জন্য দায়ীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাদনবিসের প্রতি আহ্বান জানান তার বাবা।
ডাক্তারের বাবা বলেন, ‘আমার একমাত্র দাবি হলো অপরাধীদের ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া। এটাই।
‘এর বাইরে কিছু নয়। এটাই আমার দাবি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে এমনটি হয়েছে, তবে অন্তত এখন থেকে এমন নির্মমতা অন্য কারও মেয়ের সঙ্গে হওয়া উচিত নয়।
‘এ কারণে এর সঙ্গে জড়িত লোকজনকে নিশ্চিতভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত।’
কী ছিল আত্মহত্যার নোটে
আত্মহত্যার নোটে নারী চিকিৎসক অভিযোগ করেন, এসআই গোপাল বাদনে কয়েকবার তাকে ধর্ষণ করেন। এ ছাড়া সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার প্রশান্ত বাঙ্কার পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে তাকে মানসিকভাবে হয়রানি করেন।
বাঙ্কারের বাবার মালিকানাধীন ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া ছিলেন ওই নারী।
‘তাকে বাঁচাতে আসেনি কোনো কৃষ্ণ’
সংস্কৃত মহাকাব্য মহাভারতের চরিত্রগুলোর কথা উল্লেখ করে ভুক্তভোগী চিকিৎসকের বাবা বলেন, ‘অন্যায়ের সময় প্রত্যেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে। সেখানে দুর্যোধন ও দুঃশাসন ছিলেন, কিন্তু কোনো কৃষ্ণই আমার মেয়েকে সাহায্য করতে আসেনি।
‘এ কারণে ভবিষ্যতে মেয়েদের জন্য অন্তত একজন কৃষ্ণের এগিয়ে এসে তার সম্মান রক্ষা করা উচিত।’