মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা, হামলার তালিকায় এবার মিসর; সরাসরি যুদ্ধে জড়ালো সৌদি আরব
- 0


প্রকাশিত: জুলাই ৩০ ২০২৬, ১৪:৫৫
অ্যামেরিকা ও ইরানের মধ্যে কয়েক দিনের বিরতির পর আবারও সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নতুন করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে আঞ্চলিক দেশগুলোও। এবার প্রথমবারের মতো হামলার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে মিসর। একই সময়ে সৌদি আরবও প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে, তারা অ্যামেরিকান বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে।
মিসরীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার দেশটির দামিয়েত্তা বন্দরে একটি অজ্ঞাত ড্রোনের বিস্ফোরণে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুটি জাহাজে আগুন ধরে যায়, যার একটি অ্যামেরিকান মালিকানাধীন গ্যাস সংরক্ষণ ট্যাংকার। হামলার পর ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে কায়রো। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মিসর।
অন্যদিকে বুধবার ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে ইরাকে অ্যামেরিকান বাহিনীর সঙ্গে যৌথ বিমান হামলা চালানোর বিষয়টি স্বীকার করেছে সৌদি আরব। চলমান যুদ্ধে রিয়াদের এটাই প্রথম সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততার ঘোষণা, যা সংঘাতের ভৌগোলিক পরিধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে অ্যামেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আরেক দফা "ভারী হামলা" সম্পন্ন করেছে। এর আগে বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করে, তারা জর্ডানে থাকা অ্যামেরিকান সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পরে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানায়, ইরান থেকে ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে। যদিও এ হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সপ্তাহের সংঘর্ষ কার্যত অ্যামেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে সৌদি আরবসহ একাধিক দেশ হামলার মুখে পড়েছে। তবে দামিয়েত্তা বন্দরে ড্রোন হামলাকে মিসরের ভূখণ্ডে সংঘটিত প্রথম বড় হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, মিসরের বন্দরে হামলার পেছনে ইরানের হাত থাকতে পারে। যদিও তিনি এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি। ট্রাম্প বলেন, "আমরা তাদের বিরুদ্ধে খুব কঠোর ব্যবস্থা নেব।" অন্যদিকে ইরানও এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল এখনো ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড দাবি করেছে, অনুমোদনহীন একটি পথ ব্যবহার করে প্রণালি অতিক্রমের সময় একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগে। তবে সেটি হামলার কারণে নাকি অন্য কোনো দুর্ঘটনায় ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এদিকে ইরান-ঘনিষ্ঠ ইরাকি মিলিশিয়াদের ওপরও নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও তাদের নিরস্ত্র হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছিল, বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, অ্যামেরিকা-সৌদি যৌথ হামলার পর এসব গোষ্ঠী সংঘাতে আরও সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে অ্যামেরিকা ও ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধ এখন ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে জড়িয়ে ফেলার দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
