করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ে অতীতের সাক্ষ্যে সত্য গোপন করেছিলেন কি না—এমন অভিযোগের মুখে অ্যামেরিকার সাবেক শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি সেনেটের এক শুনানিতে বারবার সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর আশ্রয় নিয়েছেন। তার এই অবস্থানের পর কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগ আনার হুশিয়ারি দিয়েছে রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন সেনেট কমিটি।
প্রায় তিন ঘণ্টার শুনানিতে কেন্টাকির রিপাবলিকান সেনেটর র্যান্ড পল ফাউচিকে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি, মহামারির সময় দেওয়া সাক্ষ্য এবং উহানের গবেষণাগারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। তবে প্রায় প্রতিটি প্রশ্নের জবাবে ফাউচি আত্মদোষ স্বীকারে বাধ্য হতে পারেন—এমন আশঙ্কা দেখিয়ে উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান।
শুনানির শুরুতেই ফাউচি বলেন, সংবিধান প্রদত্ত এই অধিকার ব্যবহার করতে হওয়ায় তিনি ব্যথিত। তবে তার দাবি, র্যান্ড পল এমনভাবে প্রশ্ন সাজিয়েছেন যাতে সামান্য ভুল বক্তব্যও পরে মিথ্যা সাক্ষ্য বা শপথভঙ্গের অভিযোগে ব্যবহার করা যায়। আইনজীবীদের পরামর্শেই তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন না বলে জানান।
শুনানি শেষে র্যান্ড পল বলেন, আগামী সপ্তাহেই ফাউচির বিরুদ্ধে কংগ্রেস অবমাননার প্রস্তাব কমিটির ভোটে তোলা হবে। যদিও তিনি স্বীকার করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দায়িত্ব ছাড়ার আগে ফাউচিকে আগাম ক্ষমা দেওয়ায় আইনি জটিলতা থাকতে পারে। তবে পলের মতে, ফাউচির উচিত ছিল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, অতীতে ভুল করে থাকলেও তা স্বীকার করা।
রিপাবলিকান সেনেটর জশ হাওলি ফাউচিকে সপ্তাহের দিন কিংবা তিনি কী রঙের টাই পরেছেন—এমন সাধারণ প্রশ্নও করেন। কিন্তু সেগুলোরও উত্তর দেননি ফাউচি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হাওলি অভিযোগ করেন, এটি শুধু আইনের বিষয় নয়, বরং সেনেট এবং অ্যামেরিকান জনগণের প্রতি অবজ্ঞার প্রকাশ।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক সদস্যরা ফাউচির পাশে দাঁড়ান। মিশিগানের সেনেটর গ্যারি পিটার্স বলেন, পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্তকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য একপাক্ষিক তদন্ত জনগণের কোনো উপকারে আসে না। তারা মহামারির সময় ফাউচির ভূমিকার প্রশংসাও করেন।
শুনানিতে উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন ফাউচির আইনজীবী ডেভিড শার্টলার বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করেন। র্যান্ড পল তাকে কথা বলার অনুমতি না দিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের ডেকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে শার্টলার এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, র্যান্ড পলের উদ্দেশ্য সত্য উদ্ঘাটন নয়; বরং ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেওয়া এবং ফাউচিকে কারাগারে পাঠানোর রাজনৈতিক অপচেষ্টা।
র্যান্ড পল দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন, করোনাভাইরাসের উৎপত্তি চায়নার উহানের একটি গবেষণাগার থেকে হতে পারে এবং সেই সম্ভাবনা আড়াল করতে ফাউচি ভূমিকা রেখেছিলেন। ফাউচি বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শুনানিতে তিনি বলেন, তার ব্যক্তিগত ডায়েরির এক হাজারের বেশি পৃষ্ঠা প্রকাশ করে তাকে অপমান ও ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
করোনাভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে বিতর্ক এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, অ্যামেরিকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ এখনো বিশ্বাস করেন, ভাইরাসটির উৎস একটি চায়নিজ গবেষণাগার হতে পারে। যদিও এ দাবির পক্ষে এখনো চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি। তবুও রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বিতর্ক নতুন করে তীব্র হওয়ায় ড. অ্যান্থনি ফাউচিকে ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।