কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ওয়াশিংটনে ২৫০ ফুট উঁচু বিশাল আর্চ নির্মাণে করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের দাবি, প্রায় একশ’ বছর আগে অনুমোদিত হলেও কখনো বাস্তবায়ন না হওয়া একটি পুরোনো প্রকল্পের ভিত্তিতেই এই স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অ্যামেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওয়াশিংটনে এই বিশাল আর্চ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। প্রস্তাবিত স্থাপনা তৈরি করা হবে কলম্বিয়া আইল্যান্ডের মেমোরিয়াল সার্কেলে—যা ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস পরিচালিত একটি সংরক্ষিত এলাকা।
গত সপ্তাহ থেকেই সেখানে জরিপ ও ভূতাত্ত্বিক পরীক্ষা শুরু করেছে কর্মীরা। একই সঙ্গে প্রশাসন দুটি ফেডারেল শিল্প ও স্থাপত্য কমিশনের অনুমোদন পাওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে। এই কমিশনগুলোতে ট্রাম্পপন্থী ব্যক্তিদের প্রভাব রয়েছে বলে সমালোচকরা অভিযোগ করছেন।
তবে ফেডারেল আইন অনুযায়ী, মেমোরিয়াল সার্কেলের মতো সংরক্ষিত এলাকায় নতুন কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেনি তারা বর্তমান কংগ্রেসের কাছে নতুন অনুমোদন চাইবে কি না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আপাতত কংগ্রেসের অনুমোদন চাওয়ার কোনো সক্রিয় পরিকল্পনা নেই।
এর বদলে ট্রাম্প প্রশাসন ১৯২৪ সালের একটি ফেডারেল কমিশনের রিপোর্টকে আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। সেই রিপোর্টে আর্লিংটন মেমোরিয়াল ব্রিজ প্রকল্পের অংশ হিসেবে কলম্বিয়া আইল্যান্ডে ১৬৬ ফুট উঁচু দুটি স্তম্ভ নির্মাণের প্রস্তাব ছিল। যদিও পরে ব্রিজ নির্মিত হলেও স্তম্ভগুলো কখনো তৈরি হয়নি।
১৯২৫ সালে কংগ্রেস ওই পরিকল্পনাকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছিল। এখন ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো—নতুন আর্চ নির্মাণের মাধ্যমে তারা মূলত সেই পুরোনো পরিকল্পনাকেই বাস্তবায়ন করছে।
গত মাসে জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট আদালতে দাখিল করা এক নথিতে বলেছে, “কংগ্রেস আগেই আর্চ প্রকল্প অনুমোদন করেছিল, যখন তারা আর্লিংটন মেমোরিয়াল ব্রিজ কমিশনের নকশা অনুমোদন দেয়।”
ইন্টেরিয়োর সেক্রেটারি মন্ত্রী ডগ বারগামও একই যুক্তি তুলে ধরেছেন। তার ভাষায়, অ্যামেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি এমন এক সময়, যখন শত বছরের পুরোনো সেই ‘অসম্পূর্ণ স্বপ্ন’ বাস্তবায়নের সুযোগ এসেছে।
বারগাম বলেন, নতুন আর্চটি শত বছর আগে প্রস্তাবিত ১৬৬ ফুটের স্তম্ভের ধারণার ওপর ভিত্তি করেই তৈরি করা হবে। তবে এর সঙ্গে অতিরিক্ত ৮৪ ফুট উঁচু বেদি ও ভাস্কর্য যুক্ত করে মোট উচ্চতা ২৫০ ফুটে নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্প ট্রাম্পের রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিংয়ের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। কারণ তিনি প্রায়ই বড় ও প্রতীকী স্থাপনার মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে জোরালো করার চেষ্টা করেন।
তবে সমালোচকরা বলছেন, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে সংরক্ষিত এলাকায় এত বড় স্থাপনা নির্মাণ আইনগত ও সাংবিধানিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি ওয়াশিংটনের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ভারসাম্য নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।