


প্রকাশিত: নভেম্বর ৫ ২০২৬, ১৩:৪৫ হালনাগাদ: নভেম্বর ৫ ২০২৬, ১৩:৪৯

ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ প্রতিরোধে মাঠে অবস্থানরত দাঙ্গা পুলিশ। ছবি: রয়টার্স
৬ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলমান ফ্রান্সের বিশৃঙ্খলায় আবারও বড় ধরনের বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার দেশটিতে ২২০টি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ৭ লাখ ৮০ হাজার মানুষ অংশ নিবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রোর সরকার।
গত সেপ্টেম্বর মাসে ফ্রান্সে শিক্ষাখাতে শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষের মানোয়ন্নয় ও অর্থায়ন বৃদ্ধির দাবিতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে শ্রমিক ইউনিয়ন ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অংশপগ্রহণে তা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। প্রায় দেড় মাস ধরে চলা এই আন্দোলনে কয়েক দফায় সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ওই দিন ফ্রান্স সরকার স্বীকার করে, পুলিশ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। এরপর সহিংসতা ঠেকাতে কয়েকটি শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে ২২০টির বেশি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হতে পারে। প্যারিসের বাইরে এসব কর্মসূচিতে সাত লাখের বেশি মানুষ অংশ নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজধানীতেও বিপুলসংখ্যক মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেবেন।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থী আন্দোলনের কর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এবং ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনকারীরাও অংশ নেবেন। ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলেছিল ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন।
প্যারিসে স্থানীয় সময় বেলা দুইটায় প্লাস দ্য লা রিপাবলিক থেকে মিছিল শুরু হওয়ার কথা। মিছিলটি শহরের পূর্বাঞ্চলের প্লাস দ্য লা নাসিওঁ পর্যন্ত যাবে। তবে বিক্ষোভকারীদের পূর্বনির্ধারিত পথ পরিবর্তন করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্লাস দ্য লা বাস্তিল ও প্লাস দ্য লা কনকর্ড হয়ে শহরের কেন্দ্র দিয়ে মিছিল করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন সিজিটির মহাসচিব সোফি শ্রমিক ও বিভিন্ন ইউনিয়নকে সাধারণ ধর্মঘটের আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার ফরাসি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা দুটি বিষয় চাই। সর্বত্র মজুরি বৃদ্ধি এবং সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের খসড়া সংশোধন। বর্তমান অবস্থায় এই বাজেট দেশের জন্য বিপর্যয়কর।’
বিক্ষোভের কারণে দেশটির রেল চলাচল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সরকারি সেবা ব্যাহত হতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এদিকে আন্দোলনের সূচনাকারী শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ কমাতে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, মাধ্যমিক শিক্ষায় ৮৩৬টি পদ বিলুপ্তির পরিকল্পনা বাতিল করা হবে। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে আরও ৫০০টি শিক্ষক পদ সৃষ্টি করা হবে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ফ্রান্সের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত এলাকার ৫০ শতাংশ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষের প্রতিটি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ২৮ জনে সীমিত রাখা হবে। ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে এ নিয়ম সব বিদ্যালয়ে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
এ ছাড়া বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৪.৪ বিলিয়ন ডলারের তহবিল দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু।
বিক্ষোভকারীদের দাবিকে যৌক্তিক বলে স্বীকার করলেও বিভিন্ন সময় সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাঁক্রো। গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনে হামলা এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে।
