ঢাকার শাহবাগ থেকে উত্তরায় যাত্রারত মেট্রোরেলে প্রচণ্ড ভিড়ে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে ফিরছিলেন ড. মুহম্মদ নাজিবুর রহমান। পথিমধ্যে অসুস্থ বোধ করলে সহযাত্রীদের অনুরোধ করেন বসতে জায়গা দেওয়ার জন্য।
মুমূর্ষ ব্যক্তির ওই অনুরোধে সাড়া দেননি কেউ। ফলে দাঁড়িয়ে থেকেই স্ট্রোক করে মৃত্যু হয় ৬৪ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধের।
অমানবিক পরিস্থিতিতে মৃত্যুবরণ করা নজিবুর ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। গত ২৪ অক্টোবর যাত্রাপথে শেওড়াপাড়া স্টেশনের কাছাকাছি এসে মারা যান তিনি।
মৃতের ছেলে নাকিবুর রহমান গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক ফেসবুক পোস্টে আক্ষেপ ও অভিযোগ জানিয়ে অসুস্থ অবস্থায় মেট্রোরেলে বসার জায়গা না পাওয়ার ঘটনাটি প্রকাশ করেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান নাকিবুর রহমান।
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির কেন্দ্রী সদস্য নাকিবুর তার পোস্টে লিখেন, ‘আব্বু দুপুরে মেট্রোরেলে শাহবাগ থেকে উত্তরা ফেরার পথে শেওড়াপাড়া স্টেশনের কাছাকাছি স্ট্রোক করে মুহূর্তেই মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে উনি শারীরিক অসুস্থ অনুভব করায় আশপাশের লোকজনের কাছে বসতে চেয়েছিলেন। কেউ জায়গা ছেড়ে তাকে বসতে দেননি।’
তিনি আরও লিখেন, ‘আমার বাবা দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় স্ট্রোক করে নিচে পড়ে যান। আল্লাহ তার মৃত্যুকে সহজ করে নিয়ে গেছেন। কিন্তু সন্তান হিসেবে এইটুকু মেনে নেওয়াটা কষ্টকর। আমার কোনো রাগ-অভিমান নাই।’
বয়স্ক ও সিনিয়র নাগরিকদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি লিখেন, ‘সবাইকে শুধু এইটুকুই বলব, চলতে-ফিরতে বয়স্ক বা সিনিয়র সিটিজেন যখন যেখানে যে অবস্থায়ই পাবেন, তাদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করুন। আপনি আজকে যাকে ইগনোর করলেন, সে আপনার বাবা না হলেও, অন্য কারও বাবা।’
মেট্রোরেলে যাতায়াতে বয়স্কদের জন্য এবং যাদের বিশেষ চাহিদা রয়েছে তাদের জন্য নির্ধারিত আসন ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তবে সম্প্রতি নির্ধারিত ওইসব সিটে বয়স্কদের বসতে দেওয়া হয় না। অধিকাংশকে অনেক সময় দাঁড়িয়ে যাত্রা করতে দেখা গেছে।