অ্যামেরিকার ভূমিকা নিয়ে আয়াতোল্লাহ খামেনির হুঁশিয়ারি

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৮ ২০২৫, ১৩:৩৭ হালনাগাদ: মার্চ ১১ ২০২৬, ১৬:০৯

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: রয়টার্স

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: রয়টার্স

  • 0

ইসরায়েলের হামলায় অ্যামেরিকার পরোক্ষ সমর্থনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ডনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জাতীর উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘অ্যামেরিকা যেকোনো সামরিক হস্তক্ষেপ তাদের জন্য “অপূরণীয় ক্ষতির” কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’

ইরান-ইসরায়েল সংঘাত যখন চরমে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, অ্যামেরিকা যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপে নামে, তবে তা হবে ‘অপূরণীয় ক্ষতির’ কারণ।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, খামেনির এই বক্তব্য সরাসরি প্রচার না হয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একজন উপস্থাপক পড়ে শোনান। জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ওই ভাষণে খামেনি বলেন, ‘ইরানি জাতি চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ ও চাপিয়ে দেওয়া শান্তির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়াবে। এ জাতি কখনো কারও কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরান, এর জনগণ এবং ইতিহাস সম্পর্কে যারা জানেন, তারা হুমকির ভাষায় কথা বলার সাহস করেন না। কারণ ইরানিরা আত্মসমর্পণ করে না।’

এই সময় তিনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ভূমিকা নিয়েও সরাসরি অভিযোগ তোলেন। খামেনি বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে কোনো সামরিক আগ্রাসনের ইঙ্গিত না থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ ও বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।

তার ভাষায়, ‘শুরু থেকেই সন্দেহ ছিল যে জায়নবাদী সরকারের (ইসরায়েল) যেকোনো হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা আছে। আর সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন নেতাদের কথাবার্তায় সেই সন্দেহ আরও শক্তিশালী হয়েছে।’

খামেনি বলেন, ‘ইহুদিবাদী শত্রুকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। আর ইরানি জাতি ও আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সেই শাস্তি দিচ্ছে।’

এর আগে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি পোস্টে জানান, আয়াতোল্লাহ খামেনিকে হত্যার কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। তবে তার এই মন্তব্যের পরই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এক টেলিগ্রাম বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়ে হুঁশিয়ার করে জানায়, ইরান সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

বার্তায় বলা হয়, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি। যা শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং সমগ্র পশ্চিমা স্বার্থের ওপরই ভয়াবহভাবে আঘাত হানবে।’

খামেনি তার বক্তব্যের শেষদিকে বলেন, ‘এই অঞ্চলের রাজনীতির সঙ্গে যারা পরিচিত, তারা জানেন—এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অংশগ্রহণ তাদের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হবে। ইরানের বিরুদ্ধে আসা কোনো আঘাতের চেয়ে তার পরিণতি অনেক ভয়াবহ হবে।’

বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির এই বক্তব্য শুধু ইরানিদের মনোবলই বাড়ায়নি, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থানকে আরও চাপে ফেলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে নতুন করে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।