ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৬০ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকের মৃত্যু হয়েছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত সরকারি তথ্যের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এটি ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাব। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার গতিও আগের যেকোনো প্রাদুর্ভাবের তুলনায় বেশি।
গত মে মাসে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলা ভাইরাসের বিরল বান্দিবুগিও ধরন। এই ধরনের বিরুদ্ধে অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর ২৬টি প্রদেশের মধ্যে আটটির ৬৬টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে ইবোলা। প্রাদুর্ভাব ঘোষণার সময় সংক্রমণ সীমিত ছিল মাত্র তিনটি স্বাস্থ্য অঞ্চলে।
দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশ এখনো সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল। এ ছাড়া আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলেও ভাইরাসটির বিস্তার ঘটেছে। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোসহ পাঁচটি দেশে সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। দেশগুলো হলো উগান্ডা, ফ্রান্স, কেনিয়া ও নাইজেরিয়া।
সংক্রমণ শনাক্তে দুর্বল নজরদারিও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উপসর্গ দেখা দেওয়ার বেশ কিছু সময় পর কিংবা তাঁরা অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার পর সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
ইবোলা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হলো সংক্রমিত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে না পারা। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে শনাক্ত হওয়া সংক্রমণের প্রায় ৮০ শতাংশ এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ঘটছে, যাঁরা আগে থেকে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে থাকা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছেন বলে চিহ্নিত ছিলেন না।
আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) জানিয়েছে, প্রাদুর্ভাব অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে বিবেচনা করতে হলে শনাক্ত সংক্রমণের অন্তত ৯৫ শতাংশ পরিচিত সংস্পর্শের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া নথিভুক্ত মৃত্যুর অন্তত অর্ধেক ঘটেছে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে, যাঁরা চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি হননি। এতে বোঝা যায়, অনেক এলাকায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আনা এখনো কঠিন হয়ে আছে।
ইবোলার প্রাদুর্ভাবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। সংক্রমণের ভয়ে হাসপাতালে যেতে অনীহা দেখাচ্ছেন কিছু অন্তঃসত্ত্বা নারী; ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের টিকাদান ও শিক্ষা কার্যক্রম।