অপ্রত্যাশিত খবরে কোমা থেকে জেগে উঠলেন তরুণী
কোমা থেকে জেগে উঠলেন তরুণী। ছবি: দ্য স্টার
- 0

কোমা থেকে জেগে উঠলেন তরুণী। ছবি: দ্য স্টার

প্রকাশিত: আগস্ট ১৮ ২০২৫, ১১:৫৯

হৃদ্যন্ত্রের বিরল সংক্রমণে কোমায় চলে যান চীনের হেনান প্রদেশের ১৮ বছর বয়সী তরুণী জিয়াং চেননান। কোমায় থাকাকালীনই পরিবারের হাতে এলো এমন সুখবর যা একসাথে হয়ে উঠল দুটি আনন্দ উদযাপনের মুহূর্ত।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন জিয়াং। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভর্তির চিঠি পাঠায় তার বাড়িতে। কে জানত সেই ভর্তির চিঠিই হয়ে উঠবে এই তরুণীর জন্য আশ্চর্য এক ‘ওষুধ’।
গত জুনে চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ‘গাওকাও’ শেষ করেন জিয়াং। তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে।
চিকিৎসকেরা জানান, জিয়াংয়ের শরীরে ধরা পড়েছে ‘ফুলমিন্যান্ট মায়োকার্ডাইটিস নামে এক বিরল ও মারাত্মক রোগ। এ রোগের কারণে হঠাৎ হৃদ্যন্ত্রে তীব্র প্রদাহ হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যে রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে।
অবস্থার অবনতি হলে জিয়াংকে অন্য এক বড় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই কোমায় চলে যান তিনি। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) কৃত্রিম হৃদ্যন্ত্র-ফুসফুসের সহায়তায় তাকে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছিল।
জিয়াং কোমায় যাওয়ার অষ্টম দিন তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চিঠি আসে বাড়িতে। পরিবারের সদস্যরা চিঠি হাতে নিয়ে হাসপাতালের আইসিইউতে মেয়ের কাছে পৌঁছান। কোমায় থাকা মেয়ের কানে কানে বাবা বললেন, তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছ!
এরপরেই জিয়াংয়ের বাবা দেখলেন এক অদ্ভুত দৃশ্য। তার মেয়ের চোখের পাতা কেঁপে উঠেছে। চিকিৎসকরা বললেন, কোমা থেকে ফিরে আসার লক্ষণ হতে পারে।
পরদিন সকালে, জিয়াং চেননান জ্ঞান ফিরে পেলেন। ভিডিও কলে কথা বললেন, বাবা-মায়ের সঙ্গে। কষ্ট হলেও দুই হাত তুলে ‘ওকে’ ভঙ্গি করে বোঝালেন তিনি খুশি এবং সবকিছু শুনতে পাচ্ছেন।
চিকিৎসকরা জানান,জিয়াংয়ের হৃদ্যন্ত্র এখন পুরোপুরি স্বাভাবিক এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল। তবে কীভাবে এত দ্রুত তিনি কোমা থেকে ফিরে এলেন তার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।
পরিবার জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরেই জিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া শুরু করবেন। জিয়াংয়ের বাবা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘অর্থনৈতিক অবস্থা যতই কঠিন হোক, আমি তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাব। এটা তার স্বপ্ন। সে যেন নিজের জীবন নিজের মতো করে গড়তে পারে, সেই সুযোগ আমি দেব।’
চীনের সামাজিক মাধ্যমে এই গল্প ছড়িয়ে পড়তেই হাজারো মানুষ শুভকামনা জানিয়েছেন।
