Skip to main content

মোবাইলেই ধরা খুনের ছক, ধরা পড়ল প্রেমিক-প্রেমিকা

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৫ ২০২৫, ৯:৫১

সোনিয়া ও তার স্বামী প্রীতম। ছবি: এনডিটিভি

সোনিয়া ও তার স্বামী প্রীতম। ছবি: এনডিটিভি

  • 0

তবে সব হিসেব ওলটপালট হয়ে যায় যখন রোহিত ফোনটি ধ্বংস না করে নিজের কাছে রেখে দেন।

মোবাইল ফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, অপরাধের তদন্তের এক শক্তিশালী হাতিয়ারও। দিল্লির প্রীত বিহার এলাকার এই ঘটনা আরও একবার তা প্রমাণ করলো। প্রেমিকের একটি ছোট ভুলের কারণে উন্মোচিত হল হত্যাকাণ্ডের রহস্য।

মাদকাসক্ত ও অপরাধী স্বামী প্রীতমের নির্যাতনে ক্লান্ত ৩৪ বছর বয়সি সোনিয়া স্বামীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। এমনকি হত্যা করে স্বামীর দেহ ফেলে দেওয়া হয় অন্য রাজ্যের একটি ড্রেনে।

প্রতিবেশী প্রেমিক রোহিতের সাথে নতুন জীবনের জন্য প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেন সোনিয়া। তবে ভাগ্য সহায় ছিলো না তার। মৃত স্বামীর ফোন এবং তার প্রেমিকের ভুলের কারণে ভেস্তে যায় পরিকল্পনা।

এনডিটিভি জানিয়েছে, ২ জুলাই প্রীতমের সাথে সোনিয়ার ঝগড়া হয়। যার জেরে সোনিয়া ও তার প্রেমিক মিলে ৫০ হাজার টাকা চুক্তিতে খুনি ভাড়া করে এবং ৫ জুলাই প্রীতমকে খুন করে তার লাশ অন্য রাজ্যের একটি ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়।

প্রীতমের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় পুলিশ তার হত্যা মামলাটি বন্ধ করে দেয়। এদিকে সোনিয়া আলিপুরে স্বামীর জন্য নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে বলা হয় যে তার স্বামী ৫ জুলাই থেকে নিখোঁজ। সে প্রীতমের ফোনটি রোহিতকে দেয় এবং তাকে ফোনটি নষ্ট করতে বলে।

তবে সব হিসেব ওলটপালট হয়ে যায় যখন রোহিত ফোনটি ধ্বংস না করে নিজের কাছে রেখে দেন।পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি দল প্রীতমের ফোন ট্র্যাক করে জানতে পারেন সেটি ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এর সর্বশেষ পরিচিত অবস্থান ছিল সোনিপত। মোবাইল ফোনটি উদ্ধার হয় এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ সত্য।

পুলিশ রোহিতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। রোহিত প্রথমে মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। দাবি করে ফোনটি সে কিনেছে। তবে পুলিশের জেরার মুখে ভেঙে পড়ে রোহিত। এরপর সোনিয়ার সাথে তার সম্পর্ক, প্রীতমকে খুনের ষড়যন্ত্র এবং প্রীতমকে কীভাবে হত্যা করে তার মৃতদেহ ফেলে দেওয়া হয়েছিল তা স্বীকার করে।

পরবর্তীতে গ্রেপ্তার করা হয় সোনিয়াকে। ফোনে থাকা কল লগ, মেসেজ এবং লোকেশন ডেটা—সব মিলিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এতে সোনিয়া ও রোহিত সরাসরি জড়িত। তারা দু’জনই পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল তাদের সম্পর্ক ও নতুন করে জীবন শুরু করার আকাঙ্ক্ষা।

তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করা হয়েছে।পুলিশ এখন তাদের ব্যাংক লেনদেন ও অতিরিক্ত যোগাযোগের তথ্য খতিয়ে দেখছে।