মুসলিম প্রধান শিক্ষককে ‘বদলি করতে’ ভয়াবহ চক্রান্ত

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩ ২০২৫, ১৯:২০

ভারতের কর্ণাটকের একটি সরকারি স্কুলের পানির ট্যাংকে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন। ছবি: এনডিটিভি

ভারতের কর্ণাটকের একটি সরকারি স্কুলের পানির ট্যাংকে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন। ছবি: এনডিটিভি

  • 0

স্কুলটির মুসলিম প্রধান শিক্ষককে অন্যত্র বদলি করতে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।

ভারতের কর্ণাটকের বেলাগাভি জেলায় একটি সরকারি স্কুলের পানির ট্যাংকে সম্প্রতি বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে।

স্কুলটির মুসলিম প্রধান শিক্ষককে অন্যত্র বদলি করতে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।

এনডিটিভি রবিবার জানায়, গত ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনায় ডানপন্থি দল শ্রী রাম সেনে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় এক নেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুলেমান গোরিনায়েককে ঘিরে আতঙ্ক ও সন্দেহ সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন অভিযুক্ত। গোরিনায়েক হুলিকাট্টি এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে গত ১৩ বছর ধরে কাজ করছেন।

পুলিশ জানায়, শিক্ষকের সুনাম নষ্ট ও তাকে বদলিতে বাধ্য করতে চক্রান্তটি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেই স্কুলের পানির ট্যাংক থেকে পানি পান করে ১২ শিক্ষার্থী সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের কেউ প্রাণ না হারালেও যে ধরনের লক্ষণ দেখা গেছে, তা স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগের জন্য যথেষ্ট ছিল।

আহত শিশু শিক্ষার্থীরা দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার পর সেরে ওঠে বলে জানান স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

অনুসন্ধান করে পুলিশ জানতে পারে, পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটিয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় বালকটি পুলিশকে জানায়, তাকে বিপজ্জনক পদার্থ থাকা একটি বোতল দিয়ে সেটি পানির ট্যাংকে ঢালতে বলা হয়। যে লোকটি শিক্ষার্থীর কাছে বোতলটি দেয়, তাকে কৃষ্ণ মাদার হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ আরও অনুসন্ধান করে জানতে পারে, চাপে পড়ে এ কাজ করেছেন কৃষ্ণ।

বাহিনীটির তথ্য অনুযায়ী, সাগর পাতিল ও নাগানাগৌড়া পাতিল ব্ল্যাকমেইল করে কৃষ্ণ মাদারকে। প্রথম দুজন কৃষ্ণের বর্ণের বাইরের একজনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেন। সে চাপে পড়ে স্কুলের পানযোগ্য পানিতে নাশকতার দাবি মেনে নেন কৃষ্ণ।

শ্রী রাম সেনের তালুক পর্যায়ের সভাপতি সাগর পাতিলকে ভয়াবহ এ চক্রান্তের অভিযুক্ত মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, স্থানীয় সরকারি একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদে একজন মুসলিম থাকার বিষয়টি তাকে ক্ষুব্ধ করেছিল।

অভিযুক্ত তিনজন সাগর পাতিল, নাগানাগৌড়া পাতিল ও কৃষ্ণ মাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিষ প্রয়োগের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াহ। তিনি একে ‘ধর্মীয় বিদ্বেষ ও মৌলবাদতাড়িত ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ড’ বলে আখ্যা দেন।