দ্বিতীয় দফায় শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যাত্রার উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনীতিকরা যখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধ বিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে আলোচনা স্থগিত করলেন ট্রাম্প।
বুধবার যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার প্রাক্কালে, মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্প ঘোষণা দেন-মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের অনুরোধে তিনি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াচ্ছেন এবং আলোচনা স্থগিত করছেন।
এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সকে নিয়ে ইসলামাবাদে রওনা দিতে রানওয়েতে তৈরি ছিল একটি এয়ারফোর্স টু বিমান। এদিকে মঙ্গলবার সকাল এবং দুপুরে একাধিক বক্তব্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা নিয়ে নিশ্চয়তা দেন স্বয়ং ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি যুদ্ধ বিরিতির মেয়াদ কোনোভাবেই বাড়াতে চান না। পাশাপাশি আলোচনায় অংশ না নেওয়া ছাড়া ইরানের জন্য দ্বিতীয় কোনো পথ খোলা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প কেন আলোচনার সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটলেন, তা নিয়ে এখন চলছে সরব আলোচনা।
যে কারণে বেড়েছে যুদ্ধবিরতি
ট্রাম্প তার পোস্টে জানিয়েছেন, আলোচনায় বসার আগে ইরান সরকার ও তার প্রতিনিধিদের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাব গঠনে সময় দিতে তিনি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের অনুরোধে শেষ সময়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
তার ভাষ্য, ইরান সরকার এখন বিধ্বস্ত ও বিভক্ত। তাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাব গঠনে সময় প্রয়োজন। তাই যুদ্ধবিরতি চলাকালীন তাদের ওপর আক্রমণ স্থগিত রাখা হবে।
এদিকে সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, অ্যামেরিকা আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত হলেও, শেষ পর্যন্ত ইরানের তরফ থেকে কোনো সাড়া আসেনি। এ পরিস্থিতিতে ভ্যান্সসহ কূটনৈতিক দলের সদস্যদের ইসলামাবাদ পাঠানো সঠিক হবে কি না- তা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে হোয়াইট হাউস।
ইরানের দাবি ছিল, হরমুজ প্রণালি ও ইরানের বন্দরে অ্যামেরিকান অবরোধ তুলে না নেয়ায় আলোচনায় অংশ নিবে না দেশটির প্রতিনিধি দল। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
এ পরিস্থিতিতে আলোচনার পথ কিভাবে এগোবে, তা নিয়ে নতুনভাবে উত্তেজনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।