

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১ ২০২৫, ২৩:২৮ হালনাগাদ: জুলাই ১৮ ২০২৬, ১:২১

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। ফাইল ছবি
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার নিউ ইয়র্ক আসছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রতিনিধি দলে তার সঙ্গে থাকছেন ছয় উপদেষ্টা ও তিনটি রাজনৈতিক দলের ছয় নেতা।
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং নির্বাচনমুখী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গন্তব্য বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন প্রধান উপদেষ্টা।
ছাত্র-জনতার ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে আসছেন ড. ইউনূস, তবে প্রথমবারের চেয়ে তার এবারের যাত্রায় মূল পার্থক্য সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন সরকারের বাইরে থাকা তিনটি ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলের নেতারা।
শুরুতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গী হিসেবে বিএনপির দুজন, জামায়াতের একজন এবং এনসিপির একজন নেতা থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত জামায়াতের প্রতিনিধি হিসেবে অ্যামেরিকায় অবস্থানরত দলটির সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে অধ্যাপক ড. নাকিবুর রহমান এবং এনসিপির ডা. তাসনিম জারাও যুক্ত হয়েছেন।
মূলত নির্বাচন পরবর্তী বাংলাদেশের দায়িত্ব থাকবে যে রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে, তাদের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই ড. ইউনূসের সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের যুক্ত করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন আগেই নিউ ইয়র্কে এসে পৌঁছেছেন।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে সাইডলাইন বৈঠক এবং অধিবেশনে মূল আলোচ্যসূচিগুলো নিয়ে কাজ করছেন তারা।
প্রায় প্রতিদিনই চেষ্টা করা হচ্ছে সর্বাধিকসংখ্যক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ড. ইউনূসের সাইডলাইন বৈঠক আয়োজনের।
ড. ইউনূস নিউ ইয়র্কে পৌঁছাবেন সোমবার বিকেলে। ২৬ সেপ্টেম্বর মূল অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি।
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির সভাপতিত্বে ‘হাই লেভেল কনফারেন্স অন দ্য সিচুয়েশন অব রোহিঙ্গা মুসলিমস অ্যান্ড আদার মাইনোরিটিস ইন মিয়ানমার’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায়ও অংশ নেবেন ড. ইউনূস। এটি জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রথমবারের মতো এমন কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠক।
এ ছাড়া ‘এনআরবি কানেক্ট ডে’ অনুষ্ঠানে ২৭ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক ম্যারিয়ট মারকুইজে একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধান উপদেষ্টা।
জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে বৈশ্বিক আলোচনায় ফিলিস্তিন, ইউক্রেন ও সুদানে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও ড. ইউনূস এসব বিষয়ের পাশাপাশি তার বক্তৃতায় বাংলাদেশের শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং মানবাধিকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরবেন।
ভাষণে তিনি শান্তিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, নিরাপদ অভিবাসন, অবৈধ অর্থ পাচার, এআই ব্যবহারের গুরুত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করবেন।
