আদালতের নিষেধ অমান্য করে এক অভিবাসী শিক্ষার্থীকে ভুলবশত হন্ডুরাসে নির্বাসন দেওয়ার ঘটনা স্বীকার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ম্যাসাচুসেটস এর একটি ফেডারেল আদালতে মঙ্গলবার শুনানির সময় ট্রাম্প প্রশাসন এর বিষয়টি স্বীকার করে। তবে এখন পর্যন্ত মামলাটি প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীর আইনজীবী টড পোমারলু সিএনএনকে জানান, প্রশাসনের ভুল স্বীকার করাকে তিনি স্বাগত জানান। তবে সমাধান ছাড়া ক্ষমা কেবল ফাঁপা ক্ষমাই থেকে যায়।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী হলেন ১৯ বছর বয়সী এনি লুসিয়া লোপেজ বেলোজা। তিনি ম্যাসাচুসেটসের ওয়েলেসলিতে ব্যবসন কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী
গত বছর নভেম্বরে থ্যাংকসগিভিং উপলক্ষে নিজ দেশে পরিবারের কাছে ছুটি কাটানোর উদ্দেশে যাচ্ছিলেন বেলোজা।
ওই সময় ম্যাসাচুসেটসের বোস্টন বিমানবন্দরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে অ্যামেরিকা থেকে বহিষ্কার করে হন্ডুরাসে পাঠানো হয়।
বেলোজা হন্ডুরাসে পাঠানোর আগের দিন তাকে বহিষ্কারে স্থগিতাদেশ জারি করেছিল আদালত। পাশাপাশি মামলাটি ওই সময় বিচারাধীন ছিল।
তবে আদালতের নির্দেশ ও পরিস্থিতি উপেক্ষা করেই তাকে নির্বাসনে পাঠানো হয়।
বৈধ অভিবাসীকে নির্বাসনে পাঠানোর বিষয়টি স্বীকারের পর সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেল্লোজা বলেন, ‘আমি ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমা গ্রহণ করছি।
‘ক্ষমা স্বীকারের ভিত্তিতে আবার পড়াশোনায় ফিরতে এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতে চাই।’
বহিষ্কারের পর নানারকম চাপের সম্মুখীন হয় বেলোজার পরিবার।
ডিসেম্বরের শুরুতে টেক্সাসের অস্টিনে ভুক্তভোগীর বাড়িতে তিনটি সাদা গাড়িতে করে হাজির হন অভিবাসন কর্মকর্তারা ।
এক পর্যায়ে বেলোজার বাবার দিকে তেড়ে আসেন একজন কর্মকর্তা। পরে তিনি ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করলে তাকে আটক করা হয়নি।
মঙ্গলবারের শুনানিতে ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল বিচারক রিচার্ড জি. স্টার্নস, যিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের নিয়োগপ্রাপ্ত। তিনি ইঙ্গিত দেন, বেলোজাকে যেন অ্যামেরিকায় ফিরিয়ে এনে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া যায়, সে বিষয়ে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।
ডনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির পর হাজার হাজার মানুষকে বহিষ্কার করেছে তার প্রশাসন।
আদালতের নির্দেশ অমান্য করে নির্বাসনের ঘটনাও আছে একাধিক।
চলতি বছরের মার্চেও আদালতের আদেশ না মেনে দুই শতাধিক অভিবাসীকে এল সালভাদরে পাঠানো হলে ওই ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।