আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত অতিরিক্ত নথি প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট-ডিওজে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট নথিতে ভুক্তভোগীদের সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে এবং আইনের বিধান অনুযায়ী কিছু অংশ গোপন (রিড্যাক্ট) রাখা হয়েছে।
এবিসি নিউজ জানায়, নথি প্রকাশের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে সহযোগী অ্যাটর্নি জেনারেল স্ট্যানলি উডওয়ার্ড আদালতের কাছে ৬০ দিন সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। বিকল্প হিসেবে তিনি জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের নথির কিছু অংশ গোপন রাখার কারণ আমলে নেয়ার অনুরোধ জানান।
আদালতে দাখিল করা আবেদনে উডওয়ার্ড বলেন, সরকার আদালতের এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয় যে এপস্টিন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট ব্যক্তিগত পক্ষের মাধ্যমে অ্যাডমিনিসট্র্যাটিভ প্রসিডিউর অ্যাক্ট অনুযায়ী কার্যকর করা যায়। তবে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট নথি নিয়ে যে কোনো বিভ্রান্তি দূর করতে সরকার প্রস্তুত।
ডিওজের দাবি, যেসব ই–মেইলে প্রেরক ও প্রাপকের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে, সেগুলো ভুক্তভোগীদের পরিচয় সুরক্ষার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। একটি ই–মেইলের ক্ষেত্রে কিছু তথ্য গোপন রাখার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা ছাড়া ভুক্তভোগীদের কিছু বার্তা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করা এক নারীর সাক্ষাৎকারের হাতে লেখা নোটও প্রকাশ করা হয়নি। ডিওজের ভাষ্য, অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি এবং হাতে লেখা নথিগুলো টাইপ করা সাক্ষাৎকার প্রতিবেদনের পুনরাবৃত্তি। পাশাপাশি হাতে লেখা নথি থেকে ব্যক্তিগত শনাক্তযোগ্য তথ্য সম্পাদনার ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত ভুলের ঝুঁকিও বেশি।
ট্রাম্প ওই নারীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট এরই মধ্যে ওই সাক্ষাৎকারগুলোর কিছু টাইপ করা প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও মূল হাতে লেখা নোট প্রকাশ করেনি।
আদালতের আদেশে বিচারক এমেট সালিভান বলেন, জনস্বার্থভিত্তিক আইন সংস্থা পাবলিক ইন্টেগ্রিটি প্রজেক্ট দেখাতে সক্ষম হয়েছে যে স্বাধীন সাংবাদিক কেটি ফ্যাং তথ্য গোপন রাখার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের তথ্য প্রকাশ না করার যুক্তিও প্রত্যাখ্যান করেন।
জবাবে স্ট্যানলি উডওয়ার্ড বলেন, ডিওজে কখনোই জেনেশুনে এপস্টিন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট লঙ্ঘন করেনি এবং আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের কাজ অব্যাহত রেখেছে।
এপস্টিন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট কার্যকর হওয়ার পর গত বছরের শেষ দিকে জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট এপস্টিন–সংক্রান্ত হাজার হাজার পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ শুরু করে। তবে কিছু আইনপ্রণেতা অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব নথি প্রকাশ না করে এবং কিছু তথ্য গোপন রেখে জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট আইনটির পূর্ণ বাস্তবায়ন করেনি।
এদিকে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বারবার দাবি করেছেন, জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট আইন মেনেই সব পদক্ষেপ নিয়েছে।