চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান ডিপসিকের পণ্য আমেরিকার সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে ডিপার্ট্মেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস। জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগের কথা বলা হলেও, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে আমেরিকা বিশ্বব্যাপী এআই খাতে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) ফেডারেল বেসামরিক সরকারি সংস্থাগুলোকে ডিপসিকের পণ্য এবং এআই মডেলটি ব্যবহার করে তৈরি তৃতীয় পক্ষের সেবা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে এসব পণ্য ও সেবা কেনার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ডিএইচএস এর দাবি, ডিপসিকের এআই মডেল ব্যবহারের ফলে সংবেদনশীল সরকারি তথ্য চীনে স্থানান্তরিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ ছাড়া মডেলগুলোতে ম্যালওয়্যার বা অন্যান্য নিরাপত্তা দুর্বলতা থাকার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে।
তবে এ নিষেধাজ্ঞা ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে এটিকে।
চীনা প্রতিষ্ঠান ডিপসিকের এআই মডেলগুলো সহজলভ্যতা ও তুলনামূলক কম খরচে ব্যবহারের সুযোগের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির অগ্রগতি উন্নত এআই প্রযুক্তি তৈরিতে বিপুল অর্থ ও সম্পদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রচলিত ধারণাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
ডিপসিকের বিরুদ্ধে আমেরিকার এই পদক্ষেপ দেশটির সরকারি ব্যবস্থায় চীনা প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। এর আগে ডিপার্টমেন্ট অব কমার্স ও ইউএস নেভিসহ কয়েকটি সরকারি সংস্থা তাদের ডিভাইসে ডিপসিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। নিউইয়র্ক, টেনেসি ও ভার্জিনিয়াসহ কয়েকটি স্টেইটেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
এদিকে, চীনা ড্রোন, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্যের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে আমেরিকা। দেশের নীতিনির্ধারকদের আশঙ্কা, চীনা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা সরকারি তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তবে ডিপসিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপটি কেবল নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, নাকি বিশ্বব্যাপী এআই খাতে নিজেদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখার প্রচেষ্টার সঙ্গেও সম্পর্কিত—তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রযুক্তিগত আধিপত্য রক্ষার উদ্দেশ্যকে নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি।
আমেরিকা ও চীনের মধ্যে এআই প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়তে থাকায় ডিপসিককে ঘিরে এই বিরোধ তথ্য সুরক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতৃত্বের প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।