Skip to main content

ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি বাতিলে ইইউকে আহ্বান ৩ দেশের

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২১ ২০২৬, ১৩:৩৩ হালনাগাদ: এপ্রিল ২১ ২০২৬, ১৭:৪৩

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৩ সদস্য দেশ স্পেন, স্লোভেনিয়া ও আয়ারল্যান্ডের (বাঁ থেকে) জাতীয় পতাকা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৩ সদস্য দেশ স্পেন, স্লোভেনিয়া ও আয়ারল্যান্ডের (বাঁ থেকে) জাতীয় পতাকা।

  • 0

লুক্সেমবার্গে মঙ্গলবার ইইউ-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠকের আগে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস জানান, আজ বৈঠকে ইসরায়েলের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি স্থগিত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা ও বিতর্কের আয়োজন করার এ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে ক্রমাগত পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় ইসরায়েলের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি স্থগিত করতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন-ইইউকে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে জোটটির ৩ সদস্য দেশ স্পেন, স্লোভেনিয়া ও আয়ারল্যান্ড।

লুক্সেমবার্গে মঙ্গলবার ইইউ-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠকের আগে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস জানান, মঙ্গলবারের বৈঠকে ইসরায়েলের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি স্থগিত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা ও বিতর্কের আয়োজন করার এ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পরে আলবারেস বলেন, ‘আমি আশা করি প্রতিটি ইউরোপিয়ান দেশ ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস ও জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় যা করণীয়, তা মেনে চলবে। অন্যথায় সেটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পরাজয় হবে।’

ইইউ-এর সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশনের চুক্তির ফলে জোটটির অন্তর্ভুক্ত ইউরোপের দেশগুলোর কাছে, বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক, বিনিয়োগ, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন সুবিধা পায় ইসরায়েল। তবে চুক্তি চালু রাখার শর্ত হলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলা।

স্পেন, স্লোভেনিয়া ও আয়ারল্যান্ড সরকারের ভাষ্য, ‘ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড পুরোপুরি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন, যা এখন আর ইইউ-এর পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।’

এর আগে গত সপ্তাহে ইইউ-এর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কালাসের কাছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যৌথভাবে একটি চিঠি পাঠায় দেশ তিনটির সরকারপ্রধান।

ওই চিঠিতে বলা হয়, ইসরায়েল এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে যা মানবাধিকার লঙ্ঘন করে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ভঙ্গ করে। একইসঙ্গে ১৯৯৫ সালের সেই চুক্তিও লঙ্ঘন করে যা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ইসরায়েলের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নির্ধারণ করে।

তারা জানায়, ইসরায়েলকে বারবার তাদের কর্মকাণ্ড পরিবর্তন করার কথা বলা হলেও দেশটির সরকার তা ভ্রুক্ষেপ করেনি। উপরন্তু চলমান যুদ্ধে ইসরাইয়েলের সামরিক আদালতে কোনো ফিলিস্তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে, তাদের জন্য চালু করেছে মৃত্যুদণ্ডের আইন- যা মৌলিক মানবাধিকারের পুরোপুরি লঙ্ঘন।

চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়, ইসরায়েলের অধিকৃত গাজার পশ্চিম তীরে সহিংসতা আরও বাড়ছে এবং গাজায় মানবিক সংকট অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।

একইসঙ্গে তিনটি দেশ যুক্তি দেয় যে, অ্যাসোসিয়েশন চুক্তির ২নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইসরায়েল মানবাধিকার রক্ষা ও শ্রদ্ধাশীল থাকতে বাধ্য, যা দেশটি বারবার লঙ্ঘন করেছে।

পূর্বে ২০২৪ সালে আয়ারল্যান্ড ও স্পেন ইসরায়েলের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি পর্যালোচনার দাবি তুলেছিল কিন্তু ইসরায়েলপন্থী বেশ কয়েকটি ইইউভুক্ত দেশের সমর্থনের অভাবে তা সম্ভব হয়নি।

ইতোমধ্যে স্পেন ও স্লোভেনিয়া অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে বাণিজ্য সীমিত করতে পদক্ষেপ নিয়েছে। গত বছরের আগস্ট মাস থেকে স্লোভেনিয়া এসব এলাকা থেকে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করেছে।