সৌদি আরবের দাম্মামে খুন হয়েছেন গাজীপুরের একই পরিবারের দুই বাংলাদেশি ভাই। বুধবার (২১ মে) দুপুরে দাম্মাম শহরের একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে সৌদি পুলিশ। নিহতরা হলেন গাজীপুর মহানগরের উত্তর ভুরুলিয়া এলাকার বাসিন্দা কামরুজ্জামান কাকন (২৬) ও কামরুল ইসলাম সাগর (২২)।
নিহতদের পিতা মো. মোশারফ হোসেন জানান, বুধবার রাত ১২টার কিছু পরে এক প্রবাসী বাংলাদেশির ফোনে তিনি ছেলেদের মৃত্যুর খবর পান। পরে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে দুই ভাই দাম্মামের ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। দুপুরের দিকে ফ্ল্যাটের দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়তে দেখে বাড়ির মালিক পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাট থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
সৌদি পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে মঞ্জু নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে সন্দেহ করছে। নিহতদের বাবা মোশারফ হোসেনের দাবি, এই মঞ্জু ঢাকার নয়াপল্টনের সামিয়া ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক বাহার উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ। বাহার উদ্দিনই তার দুই ছেলেকে খুনের পরিকল্পনা করে থাকতে পারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কামরুজ্জামান কাকন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে চাকরির চেষ্টা করছিলেন। এই সময়ে বাহার উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি তাকে কানাডা পাঠানোর প্রলোভন দেখান। ২১ লাখ টাকার চুক্তিতে বিষয়টি হয়, প্রাথমিকভাবে মোশারফ হোসেন তাকে ৩ লাখ টাকা দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও কাকনকে কানাডায় পাঠানো হয়নি।
পরবর্তীতে ছোট ছেলে সাগরকে ভালো বেতনের চাকরির কথা বলে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকায় সৌদি পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছে সাগরকে একটি ঘরে আটকে রেখে আরও ৪ লাখ টাকা দাবি করা হয়। মোশারফ হোসেন বাধ্য হয়ে সে টাকাও দেন। এরপরও সাগরকে দেওয়া হয় খাবার সরবরাহের কাজ।
এক পর্যায়ে কাকনকেও গত বছরের ৪ ডিসেম্বর সৌদি পাঠানো হয় আরও ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। কিন্তু সৌদিতে পৌঁছে তাদের কোনো চাকরি না দিয়ে একটি ছোট ঘরে আটকে রাখা হয়।
সন্তানদের দুরবস্থা জানার পর মোশারফ হোসেন উমরা ভিসায় সৌদি গিয়ে তাদের দেখে আসেন। ফিরে আসার সময় বাহার উদ্দিন তাকে একটি ব্যাগ দিয়ে ঢাকায় পৌঁছে দিতে বলেন। সৌদি ইমিগ্রেশন ওই ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে সোনার একটি পুটলি জব্দ করে, যার মূল্য ১৩ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়।
এ ঘটনার পর বাহার উদ্দিন মোশারফের ওপর চাপ দিতে থাকেন এবং টাকা ফেরত না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেন। গত ৯ মে বাহার উদ্দিনের লোকজন গাজীপুরে এসে মোশারফকে খুঁজতে থাকে এবং তার বাবাকে জিম্মি করে হুমকি দেয়। পরে পুলিশ মোশারফের বাবা আবুল কাশেমকে উদ্ধার করে।
দুই ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছেন মোশারফ হোসেন। তিনি সরকার ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেছেন।