টেনেসির কারাগারে দণ্ডিত নারী ক্রিস্টা গেইল পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তাকে জরুরি চিকিৎসা দিতে দেরি হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। জরুরি সেবাকর্মী ও কারা কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তির কারণে এই বিলম্ব হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম এপি নিউজ জানায়, গত মাসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর জরুরি নম্বর ৯১১-তে করা ফোনকলের রেকর্ডিং থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
রেকর্ডিং থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকক্ষ থেকে জরুরি চিকিৎসাসহায়তা চাওয়ার বিষয়টি সত্য কি না, তা নিশ্চিত করতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হয়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ৪০ মিনিটে প্রথম জরুরি ফোনকলটি করা হয়। এর এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় আগে পাইকের শরীরে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা শুরু হয়েছিল। তবে ফোনকারী জরুরি সহায়তার অনুরোধের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সংকেত দিতে পারেননি।
রাত ৯টা ৩ মিনিটে এক জরুরি সেবাকর্মীকে বলতে শোনা যায়, জরুরি যোগাযোগ বিভাগের সুপারভাইজাররা জানিয়েছেন, ফোনকলটি ভুয়া। রিভারবেন্ড কারাগারে কোনো চিকিৎসাসহায়তার প্রয়োজন নেই।
প্রথম ফোনকলের প্রায় আধা ঘণ্টা পর, রাত ৯টা ১১ মিনিটের দিকে কারা কর্তৃপক্ষ জরুরি সহায়তার অনুরোধটি সত্য বলে নিশ্চিত করে। এরপর জরুরি সেবাপ্রদানকারী কর্মীদের কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে টেনেসি সংশোধন বিভাগ ও পাইকের আইনজীবীদের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি।
দুই দফা ইনজেকশনেও বেঁচে যান পাইক
৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধ দুই দফায় প্রয়োগ করা হয়েছিল। এরপরও তিনি বেঁচে যান এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
১৯৯৫ সালে সহপাঠী কলিন স্লেমারকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে পাইকের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। ওই হত্যাকাণ্ডের সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর। প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্লেমারকে নির্যাতন করে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সবচেয়ে কম বয়সী নারীদের একজন তিনি।
টেনেসির নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দফায় পেন্টোবারবিটাল প্রয়োগে মৃত্যু না হলে দ্বিতীয় দফায় একই ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়। তবে দ্বিতীয় দফার ইনজেকশনের পরও কোনো বন্দী বেঁচে গেলে কী করতে হবে, সে বিষয়ে নিয়মে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।
প্রথম জরুরি ফোনকলের লিখিত প্রতিলিপিতে বলা হয়, পাইক অচেতন ছিলেন এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছিলেন না।
হাসপাতালে নেওয়ার পর কয়েক দিন তাকে কৃত্রিমভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস চালু রাখার যন্ত্র ভেন্টিলেটরের সাহায্য নিতে হয়। একপর্যায়ে তার আইনজীবীরা মনে করেছিলেন, তিনি আর বাঁচবেন না।
তবে গত মঙ্গলবার তার জ্ঞান ফেরে। আইনজীবীরা জানান, এরপর তিনি অল্পস্বল্প কথা বলতে শুরু করেন এবং অন্যের সহায়তায় হাঁটতে পারেন। শনিবার তারা জানান, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর পাইককে সেই নারী কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি ৩০ বছর ধরে বন্দী ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টায় কী ভুল হয়েছিল, তা এখনো জানায়নি টেনেসি সংশোধন বিভাগ। এ ঘটনার পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরবর্তী প্রচেষ্টা স্থগিত করেছেন টেনেসির গভর্নর বিল লি।
পাইককে আবার মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার চেষ্টা করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
চিকিৎসাবিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওষুধের গুণগত মানের সমস্যা কিংবা শিরায় ওষুধ প্রয়োগের নলের অবস্থানজনিত ত্রুটির কারণে পাইক বেঁচে যেতে পারেন। এসব কারণে ওষুধ রক্তপ্রবাহে প্রবেশ না করে শরীরের টিস্যুতে জমা হয়ে থাকতে পারে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার আগেই পাইকের আইনজীবীরা আদালত ও কারা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন, তার রক্তের একটি সমস্যা রয়েছে, যার কারণে ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে।