মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ২ সপ্তাহেরও কম সময় আগে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতারা।
সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানায়, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া, নির্দিষ্ট কিছু ব্যালট আলাদা করে রাখা এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেওয়ার মতো অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফেডারেল আদালতে এ মামলা করা হয়।
মামলাকারীদের মধ্যে আছেন ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটি (ডিএনসি), কংগ্রেস ও সেনেট নির্বাচনে দলটির প্রচার পরিচালনাকারী শাখা এবং কয়েকজন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা।
তাদের দাবি, স্টেইটের নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ ধরনের পদক্ষেপ বন্ধে আদালতের নির্দেশনা চেয়েছেন তারা।
তবে ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস-ডিওজে বলছে, নির্বাচনী ব্যবস্থার অখণ্ডতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
গত কয়েক সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাডা ও অন্যান্য স্টেইটে ভোটার তালিকায় অনাগরিকদের নাম থাকার অভিযোগ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছে।
ডিওজে ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট-ডিএইচএস অভিযোগ করে, কয়েকটি স্টেইট ভোটার তালিকায় অনাগরিকদের নাম থাকার বিষয়টি জেনেও তাদের নাম বাদ দিতে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করছে না।
ডিওজের মুখপাত্র কার্স্টেন পেলস ক্যালিফোর্নিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ডিওজের সরবরাহ করা তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাই করতে বলেছিল। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়া তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
অন্যদিকে স্টেইটগুলোর কর্মকর্তাদের দাবি, মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে অনাগরিক ভোটার হিসেবে অনেককে নথিভুক্ত করা ফেডারেল সরকারের সীমার অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ। এতে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি হতে পারে।
ডেমোক্র্যাটদের মামলায় বলা হয়েছে, কথিত অনাগরিকদের নিয়ে ত্রুটিপূর্ণ তালিকা তৈরি করে ভোটার নিবন্ধনের তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে স্টেইটগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার নির্বাচন ও ভোট জালিয়াতি নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও আনা হয়েছে। এতে বলা হয়, এসব অভিযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি নির্বাচনী ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যদিও আদালত বারবার এ ধরনের প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মামলাটির বিষয়ে এখনও হোয়াইট হাউসের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।