চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠককে ঘিরে কড়া সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং তাইওয়ানের নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর বাস্তব সমাধানের চেয়ে বৈঠকে আনুষ্ঠানিকতা ও আড়ম্বরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শি জিনপিংকে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনদিনব্যাপী বৈঠকে ছিল আড়ম্বরপূর্ণ নৈশভোজ,সৌহার্দ্যময় চা চক্র,উপহার আদান-প্রদানসহ একাধিক জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন। তবে দুই দেশের মধ্যে বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বৈঠকে বড় কোনো অগ্রগতি হয়েছে—এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পর্যবেক্ষণ করা একটি বিবৃতিতে জানা যায়, সিনেটের ডেমোক্র্যাটিক ককাসের অন্তত ১৯ জন সদস্য ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, কংগ্রেস অনুমোদিত তাইওয়ানের জন্য দ্রুত ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি নিরাপত্তা সহায়তা নিশ্চিত করতে।
এর মধ্যে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার তহবিল এবং প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ রয়েছে।
একই সঙ্গে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে চীনের ওপর চাপ বাড়ানো এবং অন্যায়ভাবে আটক অ্যামেরিকান নাগরিকদের মুক্তির জন্য উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
চীনে উন্নত চিপ বিক্রি নিয়েও সমালোচনা
ট্রাম্প প্রশাসন চীনের কাছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চিপ বিক্রির ওপর কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করায়ও সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটরা।
তাদের ভাষ্য, অ্যামেরিকা ও চীনের মধ্যে শুল্কসংক্রান্ত সাময়িক সমঝোতা বাড়ানো হলেও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি।
বিশেষ করে বিরল মাটি বা ‘রেয়ার আর্থ’ পরিশোধন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে চীনের বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি তারা তুলে ধরেছেন।
বিবৃতিতে ডেমোক্র্যাটরা বলেন, চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সফল হতে হলে অ্যামেরিকাকে নিজেদের সক্ষমতায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করতে হবে, মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় দৃঢ় থাকতে হবে।
ট্রাম্পের নীতির সাধারণ সমালোচক হিসেবে পরিচিত ডেমোক্র্যাটদের এই প্রতিক্রিয়াকে চীন-নীতিতে দলটির সম্ভাব্য অবস্থানের একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের একটি বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটরা কী ধরনের নীতি গ্রহণ করবে, সে বিষয়ে এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।