ইরানের আকাশে ভূপাতিত হওয়া একটি ইউএস এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের দুজন ক্রু সদস্যের মধ্যে দ্বিতীয়জনকে একটি পৃথক অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এবিসি নিউজ জানায়, শুক্রবার ভূপাতিত হওয়া বিমানটির সামনের আসনের পাইলটকে সেদিনই উদ্ধার করা হয়।
তবে অপর ক্রু সদস্য, যিনি একজন উইপন সিস্টেম অফিসার-ডব্লিউএসও, তাকে খুঁজে পেতে দুই দিন ধরে তল্লাশি চালানো হয়। অবশেষে রোববার রাতে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানান, উদ্ধার হওয়া ওই কর্মকর্তা ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকে ছিলেন এবং ইরানি বাহিনী তার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল। পরে বিভ্রান্তিমূলক কৌশল ব্যবহার করে শত্রুপক্ষকে ধোঁকা দিয়ে এই উদ্ধার অভিযান সফল করা হয়।
অ্যামেরিকান কর্মকর্তারা জানান, এই অভিযানে বহু যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার অংশ নেয়। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ইরানি গুলির মুখে পড়লেও তারা নিরাপদে ফিরে আসে। এছাড়া সহায়তাকারী একটি এ-১০ যুদ্ধবিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে সেটি কুয়েতে পৌঁছানোর পর পাইলট নিরাপদে বের হয়ে আসেন।
উদ্ধার অভিযানের সময় ইরানের ভেতরে অবতরণ করা দুটি এমসি-১৩০জে বিমান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়ে। পরে সেগুলো শত্রুর হাতে পড়া ঠেকাতে ধ্বংস করে দেয় মার্কিন বাহিনী। একইভাবে চারটি এমএইচ-৬ হেলিকপ্টারও ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করা হয়।
যার ফলে উদ্ধারকারী দল ও আহত বিমানকর্মীকে ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত বিমান পাঠাতে হয় বলে কর্মকর্তারা জানান।
একজন জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স এজেন্সি-সিআইএ এ অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সংস্থাটি ইরানের ভেতরে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে শত্রুপক্ষকে ভুল পথে পরিচালিত করে এবং আটক ক্রু সদস্যের অবস্থান শনাক্ত করতে সহায়তা করে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অভিযানকে অ্যামেরিকার ইতিহাসের অন্যতম সাহসী উদ্ধার অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো কোনো মার্কিন যোদ্ধাকে পেছনে ফেলে আসি না।’
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ক্রু সদস্য গুরুতর আহত হলেও বর্তমানে তিনি নিরাপদে আছ।
ঘটনার বিস্তারিত জানাতে সোমবার একটি সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে।