অ্যামেরিকায় স্থায়ীভাবে থাকতে চান, নজর দিচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে?

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩ ২০২৫, ০:৪৭

স্মার্টফোনের স্ক্রিনে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন অ্যাপের আইকন। ছবি: মিডল ইস্ট মনিটর

স্মার্টফোনের স্ক্রিনে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন অ্যাপের আইকন। ছবি: মিডল ইস্ট মনিটর

  • 0

‘গণ্ডগোলে পইড়া গেলে পাবলিক তোমারে বাঁচাইব না/উকিল-মোক্তার যতই ধরো, বেইল পাইবা না।’

অ্যামেরিকায় স্থায়ী বসবাসের অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন যেসব বিষয় খতিয়ে দেখছে, তার একটি সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় কারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট অনুপযুক্ত হলে এর প্রভাব পড়তে পারে তার বসবাসের অনুমোদনের ক্ষেত্রে।

এ বিষয়ে করণীয় কী, তা অ্যাটর্নি মীর এম মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চেয়েছেন টিবিএন অ্যানালাইসিসের সঞ্চালক শান্তু বিশ্বাস। বাস্তবতার আলোকে সে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন অতিথি।

টিবিএন: ইদানীং একটি জিনিস দেখছি। বিশেষ করে ভিসার ক্ষেত্রে অথবা সিটিজেনশিপ পরীক্ষার ক্ষেত্রে অথবা গ্রিন কার্ডের বিভিন্ন প্রসেসের ক্ষেত্রে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অনেক বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে আপনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী ধরনের পোস্ট করছেন, আপনি কী ধরনের মেন্টালিটি গ্রো করেন, সেটা আপনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পায় বলে তারা ধারণা করছেন বা দাবি করছেন এবং সেই ক্ষেত্রে তারা খুব চেক করছেন এই ব্যাপারটা। তো সেই ক্ষেত্রে একজন অ্যাটর্নি হিসেবে আপনি আসলে কী মনে করেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে একজন ইমিগ্রেশনপ্রত্যাশীর কতটা সচেতন থাকা উচিত আসলে? যা তা দেখলেই যে শেয়ার করতে হবে, ব্যাপারটা তা না বা নিজেকে কন্ট্রোল করা, রয়েসয়ে কাজ করা, এটা কতটা দরকার এখন?

মিজানুর রহমান: আমাকে এই প্রশ্ন কেন করলেন? নিজের বোঝ পাগলেও বোঝে। এগুলা বন্ধ করেন। আপনার সামনে একটা ভবিষ্যৎ। আপনার একটা ভুল কাজের জন্য আপনার ফ্যামিলি, বাচ্চাকাচ্চা সবাই এফেক্টেড হবে। আপনার মা-বাবা আপনার জন্য ওয়েট করছে, ভাই-বোনরা অপেক্ষা করছে। আর এদিকে আপনি দেশ ও জাতির সেবায় ইত্যাদি, ইত্যাদি। এ রকম বহু কিছু ঘটনা আছে এ রকম, আমি জানি।

তো এগুলা একটু বোঝার চেষ্টা করেন। হ্যাঁ, একটু বুঝলে ক্ষতি হবে না। ভালোই হবে। এ রকম আরও বহুভাবে বহু কিছু করা যায়।

আপনি অ্যামেরিকাতে না আসলেন। দ্যাট’স ফাইন। অ্যামেরিকাতে থাকতেই হবে, এমন কোনো কথা নাই।

অন্যান্য দেশে বহু টাকা-পয়সা আছে। অ্যামেরিকাতে এটা একটা ইল্যুশনের মতো কাজ করে। হ্যাঁ, বলতে পারেন আপনারা তো আইসা পড়ছেন। আপনারা চান না আমরা আসি।

আপনি আসেন। তাহলে যেহেতু আপনি আসবেনই, যেখানকার যে নিয়ম, সেখানে কাইন্ডলি একটু দেখেন চিন্তা করে কোনটা একটু ভালো হয়।

প্লিজ, এটা হলে (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বুঝেশুনে পোস্ট দিলে) আপনার ভালো হবে। ক্ষতি হবে না। ধন্যবাদ।

টিবিএন: তার মানে হচ্ছে আপনি যেটা বলছেন, আসলেই যে দেশে আপনি আছেন, সেই দেশের লকে (আইন) আপনার মানতে হবে, সেই দেশের সিস্টেমকে মানতে হবে…আপনাদের অনেক ক্লায়েন্ট বা অনেকে অভিযোগ করেন, অ্যাটর্নি এটা করল না, অ্যাটর্নি ওইটা করল না। আমরা এটা পারলাম না। আমাদের অনেক দর্শকরাও বিভিন্ন প্রশ্ন করে থাকেন যে, আমি এই সহায়তা পাইনি, কিন্তু উনি যে এখানকার লর সঙ্গে ব্রিট্রে করেছেন বা উনি যে ল ব্রেক করছেন, এটা আসলে উনি নিজেও ভুলে যান। উনি কখন কোনো এক সময়ে একটা পোস্ট করেছিলেন, যেটার ইমপ্যাক্ট হয়তো দুই বছর পরে গিয়ে তার ইমিগ্রেশনে পড়তে পারে।

মিজানুর রহমান: এখানে আমাকে যদি আরেকটু বলার সুযোগ দেন। একটা কথা আছে। একটা গান আছে। ‘গণ্ডগোলে পইড়া গেলে পাবলিক তোমারে বাঁচাইব না/উকিল-মোক্তার যতই ধরো, বেইল পাইবা না।’ তো এগুলা তো আমরা জানি। যাদের নিয়ে আপনি কথা বলছেন, তারা না দেশ থেকে আসছে। আমরা এ সমস্ত গানটান শুনি নাই? তো এই হলো অবস্থা।

একটু সাবধানে থাকেন আরকি। এই আরকি।