ইরান সরকার এখনই পতনের ঝুঁকিতে নয়: অ্যামেরিকার গোয়েন্দা মূল্যায়ন
- 0


প্রকাশিত: মার্চ ১২ ২০২৬, ১৫:১২
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে অ্যামেরিকা ও ইসরায়েলের লাগাতার হামলার পরও ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনই ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে নেই বলে জানিয়েছে অ্যামেরিকান গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্র বলছে, ইরানের নেতৃত্ব এখনো দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানায়, বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ধারাবাহিকভাবে একই মূল্যায়ন উঠে এসেছে—ইরানের শাসনব্যবস্থা পতনের ঝুঁকিতে নেই এবং দেশটির জনগণের ওপর এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সর্বশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি গত কয়েক দিনের মধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তেলের দাম দ্রুত বাড়ায় রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০০৩ সালের পর সবচেয়ে বড় অ্যামেরিকার সামরিক অভিযানটি শিগগিরই শেষ করতে পারেন। তবে ইরানের কঠোরপন্থি নেতৃত্ব ক্ষমতায় দৃঢ়ভাবে টিকে থাকলে যুদ্ধের গ্রহণযোগ্য সমাপ্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যামেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পরও দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্ব কাঠামো ভেঙে পড়েনি। ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও অভ্যন্তরীণ আলোচনায় স্বীকার করেছেন যে এই যুদ্ধের ফলে ইরানের ধর্মীয় সরকার পতন হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
সূত্রগুলো বলছে, পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ভবিষ্যতে বদলে যেতে পারে।
নেতৃত্বে পরিবর্তন
খামেনেই নিহত হওয়ার পর শিয়া ধর্মীয় নেতাদের সংগঠন অ্যাসেম্বলি অভ এক্সপার্ট তার ছেলে মুজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
যদিও অ্যামেরিকা ও ইসরায়েলের হামলায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারসহ বহু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, তবুও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে আইআরজিসি এবং অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব এখনো দেশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
কুর্দি গোষ্ঠী প্রসঙ্গ
অন্যদিকে ইরানি কুর্দি মিলিশিয়ারা ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা চালাতে পারবে কি না—সেটি নিয়েও আলোচনা চলছে। প্রতিবেশী ইরাকে অবস্থানরত কয়েকটি কুর্দি গোষ্ঠী অ্যামেরিকার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছে বলে জানা গেছে।
ইরানি কুর্দিস্তানের কোমালা পার্টির নেতা আবদুল্লাহ মোহতাদি দাবি করেছেন, অ্যামেরিকার সহায়তা দিলে হাজার হাজার তরুণ অস্ত্র তুলে নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
তবে অ্যামেরিকান গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এসব কুর্দি গোষ্ঠীর কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও জনবল নেই, যা দিয়ে তারা দীর্ঘ সময় ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে পারবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সরকারকে সামরিকভাবে উৎখাত করতে হলে স্থল অভিযানের মতো বড় ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে। তবে অ্যামেরিকা এখনো সেই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে চলমান যুদ্ধের পরিণতি কী হবে—তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।
