কিউবার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও চাপ প্রয়োগের কৌশলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ।
তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের বর্তমান অবস্থান মানবিক বিপর্যয়, এমনকি গণহত্যার পরিস্থিতিও তৈরি করতে পারে।
সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রদ্রিগেজ বলেন, ‘অ্যামেরিকা এমন একটি বিপজ্জনক পথে এগোচ্ছে, যা কিউবা ও অ্যামেরিকান নাগরিকদের প্রাণহানির কারণ হতে পারে।’
তার ভাষ্য, এতে কিউবায় ‘রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি’ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প একাধিকবার কিউবার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নাটকীয় পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প তার এক বক্তব্যে জানান, ইরানের পর কিউবাকে লক্ষ্য করা হতে পারে। ওই সময় কিউবার উপকূলে অ্যামেরিকান যুদ্ধবিমান ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোতায়েন করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই কিউবার অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও পর্যটন বিভিন্নভাবে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন ট্রাম্প।
একই সঙ্গে চলতি বছরের শুরুতে দেশটির রাজধানী হাভানায় বিদেশি তেল সরবরাহ সীমিত করতে অবরোধ আরোপ করা হয়। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানিতে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে দেশটিকে পুরোপুরি অন্ধকার রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।
এমন বাস্তবতায়, রদ্রিগেজ বলেছেন, এখন সামরিক হামলা হলে কিউবা শেষ পর্যন্ত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে এবং এতে জনগণের ব্যাপক সমর্থন থাকবে।
এর আগে গত মার্চ মাসে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল ওয়াশিংটনের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ধরে গোপন আলোচনা বৈঠক করে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করেন।
তবে এবিসি নিউজকে রদ্রিগেজ জানান, ওই আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি।