আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভোট দিয়েছেন লাখো ভোটার। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কাছ থেকে প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেটের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয় ডেমোক্র্যাটরা। এই নির্বাচনে মিশিগান স্টেট থেকে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। তাঁর বিজয়ের মধ্য দিয়ে আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সেনেটের সদস্য নির্বাচিত হলেন তিনি।
জয়ের পর ডিট্রয়েটে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া আবেগঘন ভাষণে এল-সায়েদ বলেন, ‘আপনারা হয়তো লক্ষ করেছেন, নির্বাচনের ফল নিয়ে কথা বলার সময় আমি সব সময় ইনশাআল্লাহ বলতাম। কিন্তু আজ রাতে আমরা সেই ইনশাআল্লাহকে আলহামদুলিল্লাহতে রূপান্তর করতে পেরেছি।’ তাঁর এই বক্তব্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন উপস্থিত সমর্থকেরা।
৪২ বছর বয়সী এল-সায়েদ মিশিগান স্টেটের সেনেট আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন। ৪ নভেম্বর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের নির্বাচনী পূর্বাভাসে তাঁর জয় নিশ্চিত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। এর মধ্য দিয়ে অবসর নিতে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সেনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনটি দলটির দখলেই থাকল।
মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান এল-সায়েদ পেশায় চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। এর আগে তিনি মিশিগানের পাবলিক হেলথ ডিপার্টমেন্টেদায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনী প্রচারে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা এবং রাজনীতিতে করপোরেট ও ধনীদের প্রভাব সীমিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম ছিল ‘মেডিকেয়ার ফর অল’—সরকারি অর্থায়নে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কর্মসূচি। এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো খাতে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর প্রচারের মূল বার্তাগুলোর একটি ছিল, অর্থের অভাবে যেন কোনো মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন।
নির্বাচনী প্রচারে ইসরায়েলকে আমেরিকার সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা এবং গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করায় বিতর্কের মুখে পড়েন এল-সায়েদ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্স ও রিপাবলিকান সমর্থকেরা তাঁকে ইসলামি উগ্রপন্থার প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তাঁর কথিত সম্পর্ক নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়। তবে এল-সায়েদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এল-সায়েদের বিজয় ডেমোক্র্যাটদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের আগে সেনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল ৫৩-৪৭। মিশিগানের আসনটি ধরে রাখার মধ্য দিয়ে সেনেটে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখল ডেমোক্র্যাটরা। একই সঙ্গে দলটির প্রগতিশীল ধারার রাজনীতির জন্যও তাঁর এ জয় তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও এএফপি