

প্রকাশিত: অক্টোবর ২১ ২০২৫, ১১:৫৮

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অপরাধীরা। ছবি: টিবিএন গ্রাফিক্স
ভারতীয় ক্রাইম সিরিজ ক্রাইম পেট্রোল স্টাইলে খুনের পর লাশের পরিচয় গোপন করতে পুড়িয়ে বিকৃত করা হয় লাশ। ফিঙ্গারপ্রিন্টের সাহায্যে যেন পরিচয় শনাক্ত না করা যায় সেটি নিশ্চিত করতে পুড়িয়ে দেয়া হয় হাতের আঙুলও।
ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায়। সবকিছুই ঠিক পরিকল্পনামতো আগায় খুনিদের। পচাগলা লাশের পরিচয় শনাক্তে হিমশিম খাচ্ছিল পুলিশও। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। লাশের সাথে থাকা চাবি থেকে পাওয়া যায় ভুক্তভোগীর পরিচয়। বেরিয়ে আসে খুনের রহস্য।
লাশের কোমরে থাকা একগোছা চাবি থেকে একটি চাবি দিয়ে ঘরের তালা খোলার পর ছেলে নিশ্চিত হন, নিহত নারী তার মা।
৪৩ বছর বয়সী ওই নারী রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটার একটি খাবার হোটেলের কর্মচারী ছিলেন। ১৫ অক্টোবর তিনি নিখোঁজ হন। গত শনিবার রাজশাহীর পবা উপজেলার বাগসারা গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন তারা মিয়া (৩৩), ফারুক হোসেন (৩০) ও হেলাল উদ্দিন (২৩। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অপরাধীরা।
সোমবার রাতে রাজশাহী মহানগর পুলিশ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, পবা থানা–পুলিশ ও ডিবি পুলিশের তৎপরতায় হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে।
জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশের শাহ মখদুম জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, নিহত ওই নারী টাকার বিনিময়ে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন। পাঁচ হাজার টাকা বিনিময়ে অসামাজিক কাজের জন্য তার সঙ্গে আসামিদের চুক্তি হয়। পরে টাকা পরিশোধ না করে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেন এবং লাশ ধানখেতে ফেলে দেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে (২৫) পবা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, দুষ্কৃতকারীরা লাশ পুড়িয়ে বিকৃত করেন। তারা হয়তো ক্রাইম পেট্রলের মতো সিরিয়াল দেখে জেনেছেন, হাতের আঙুল পুড়িয়ে দিলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে আর শনাক্ত করা যাবে না। চার দিনে লাশও পচে গিয়েছিল। পরে লাশের কোমরে একটি চাবির গোছা পাওয়া যায়। তাতে তিনটি চাবি ছিল, যা দিয়ে ওই নারীর ঘরের তালা খোলা সম্ভব হয়।
