ভারত–ইইউ’র ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি: দু’পক্ষই কমাবে পণ্যের শুল্ক

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭ ২০২৬, ১১:৪৪

ইউরোপিয়ান কমিশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট কায়া  কালাস এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একটি ইইউ-ভারত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন

ইউরোপিয়ান কমিশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট কায়া কালাস এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একটি ইইউ-ভারত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন

  • 0

ভারত ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বা ইইউ একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার লক্ষ্য বাণিজ্য বাধা কমিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও বিস্তৃত করা। এই চুক্তি অনুযায়ী দু’পক্ষই আগামী বছরগুলিতে শুল্ক ব্যাপকভাবে কমাবে, যা সম্ভাব্যভাবে ভারত–ইইউ বাণিজ্যকে শক্তিশালী করবে এবং সংযুক্ত রাষ্ট্রসহ অন্যান্য বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমাবে।

ভারত ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বা ইইউ একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার লক্ষ্য বাণিজ্য বাধা কমিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও বিস্তৃত করা। এই চুক্তি অনুযায়ী দু’পক্ষই আগামী বছরগুলিতে শুল্ক ব্যাপকভাবে কমাবে, যা সম্ভাব্যভাবে ভারত–ইইউ বাণিজ্যকে শক্তিশালী করবে এবং সংযুক্ত রাষ্ট্রসহ অন্যান্য বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমাবে।

এখন যে চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েছে, তার ভিত্তিতে মোট বাণিজ্যের ৯৬.৬ শতাংশ পণ্যের শুল্ক বাদ বা কমানো হবে। এর ফলে ইইউ থেকে ভারতীয় বাজারে আমদানি করা পণ্যের শুল্ক কমবে এবং ইইউ কোম্পানিগুলো প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরো শুল্ক ব্যয় বাঁচাতে পারবে।

চুক্তির আওতায় ইইউ ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ৯৯.৫ শতাংশ শুল্কও ধীরে ধীরে কমাবে। এতে প্রাকৃতিক রফতানি খাত যেমন সামুদ্রিক খাবার, টেক্সটাইল, রাসায়নিক, রাবার, বেস মেটাল ও গহনা শিল্প উপকৃত হবে।

গুরুত্বপূর্ণ শুল্ক কমানো

চুক্তিতে সবচেয়ে নজরকাড়া হলো গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন সংশ্লিস্ট পণ্যের ওপর শুল্কে বড় ধরনের কাঁটছাঁট।
বর্তমানে ভারতে ইউরোপিয়ান গাড়ির ওপর সর্বোচ্চ ১১০ শতাংশ শুল্ক আরোপিত রয়েছে। চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তা প্রায় ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে, বিশেষত নির্দিষ্ট কোটার ভেতর থাকা গাড়িগুলো। এতে ইউরোপের বড় গাড়ি নির্মাতা যেমন ভক্সওয়াগান, মার্সেডিজ–বেঞ্জ ও বিএমডব্লিউ–র মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ভারতের বাজারে প্রবেশ আরও সহজ হবে।

এ ছাড়াও ইইউ থেকে আসা ওয়াইন ও সিগারেটসহ অন্যান্য কিছু পণ্যের শুল্কও পদক্ষেপক্রমে কমিয়ে আনা হবে। তবে কিছু সংবেদনশীল কৃষিপণ্য যেমন সয়া, গরুর মাংস, চিনি, চাল ও দুধজাত পণ্য এই চুক্তির আওতায় রাখা হয়নি।

বাণিজ্যিক প্রভাব ও প্রত্যাশা

এই বাণিজ্য চুক্তি দুই-দশক ধরে আলোচনার পর চূড়ান্ত হচ্ছে, এবং এটিকে বহু ব্যবসায়ী ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক “মাদার অফ অল ডিলস” হিসেবে বর্ণনা করেছেন—কারণ এটি প্রায় কয়েকশ মিলিয়ন মানুষের বাজারকে আরও উন্মুক্ত করে দিচ্ছে।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ভারতের এই বড় চুক্তি সম্ভবত ২০৩২ সালের মধ্যে ইইউ থেকে ভারতের কাছে রফতানি দ্বিগুণ করবে এবং ভারত–ইইউ বাণিজ্যকে ২০০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে নিয়ে যেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

আইনি প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়ন

চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার আগে তা অবশ্য ইউরোপিয়ান সংসদ, ইইউ সদস্য দেশগুলো ও ভারতের মন্ত্রিসভার আইনি অনুমোদন বা র‍্যাটিফিকেশন পেতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি সাধারণত কয়েক মাস সময় নিতে পারে এবং এর পর ধাপে ধাপে শুল্ক কমিয়ে আনা হবে।

কৌশলগত প্রেক্ষাপট

এই চুক্তিটি এমন সময়ে এসেছে যখন অ্যামেরিকার সাথে সম্পর্ক ও শুল্ক নীতির পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় ভারত ও ইইউ উভয়ই চাইছে নিজের বিপণন ক্ষেত্র ও উৎপাদন পরিষেবাকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলতে।