মিনেসোটার ডেমোক্র্যাটিক ওমেন ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার বাসায় তল্লাশি চালিয়েছেন ফেডারেল কর্মকর্তারা। সোমবার ভোরে জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের অনুমোদিত পরোয়ানা নিয়ে এ তল্লাশি চালানো হয়। ডিওজে জানিয়েছে, এটি চলমান একটি ফেডারেল ফৌজদারি তদন্তের অংশ। তবে তদন্তের বিষয়বস্তু কিংবা তল্লাশির সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। (সূত্র: এপি ও সিএনএন)
জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্রের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশন্সের কর্মকর্তারা বিচার বিভাগের সংগ্রহ করা আদালত-অনুমোদিত তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করেছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশন্স হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের অধীন একটি সংস্থা, যা ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত করে।
তবে তদন্তের প্রকৃতি সম্পর্কে বিবৃতিতে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইলহান ওমরের দপ্তর এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিএনএন।
গত মাসে হোয়াইট হাউসের সীমান্তবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টম হোম্যান ফক্স নিউজকে জানিয়েছিলেন, ওমরকে ঘিরে কিছু কার্যক্রম চলছে। তবে তদন্তের বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। সোমবারও তল্লাশির বিষয়টি নিশ্চিত করে হোম্যান বলেন, চলমান তদন্তের বিষয়ে মন্তব্য করার দায়িত্ব ডিওজের উপপ্রধান টড ব্ল্যাঞ্চ কিংবা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিনের ওপর ছেড়ে দিতে চান তিনি।
ওমরকে নিয়ে তদন্তের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা অতীতে তাঁর অভিবাসন-সংক্রান্ত বিষয় এবং পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, আমেরিকায় তাঁর ভাইকে আনার সুবিধার্থে তিনি তাঁকে বিয়ে করেছিলেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি কর্মকর্তারা। তল্লাশির সঙ্গে এসব অভিযোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা-ও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি।
নির্বাচনের আগে তল্লাশি
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার জন্য লড়ছেন ওমর। নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে তাঁর বাসায় এই তল্লাশি এমন সময়ে হলো, যখন তিনি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসননীতির একজন জোরালো সমালোচক।
সোমালিয় বংশোদ্ভূত ওমর কিশোর বয়সে সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় দেশটি ছেড়ে অ্যামেরিকায় আসেন। পরে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পান এবং ২০১৮ সালে প্রথমবার কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হন। প্রগতিশীল অবস্থানের জন্য পরিচিত ‘দ্য স্কোয়াড’ নামে পরিচিত নারী কংগ্রেস সদস্যদের গোষ্ঠীরও তিনি একজন সদস্য।
ট্রাম্প অতীতে ওমরকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন এবং সোমালি অভিবাসীদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছেন। এদিকে, চলতি বছরের শুরুর দিকে মিনেসোটায় ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারী ও অভিবাসন কর্মকর্তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সময় প্রশাসনের অভিবাসন অভিযানবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া দুই মার্কিন নাগরিক গুলিতে নিহত হন।
ওমরের বাসায় তল্লাশি এবং চলমান তদন্তের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করেনি ডিওজে। ফলে তদন্তের পরিধি, সম্ভাব্য অভিযোগ এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।