ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে পদক্ষেপ নিয়েছে হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ।
সিবিএস নিউজ জানায়, কংগ্রেসের অনমুতি ছাড়া ট্রাম্পের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া বন্ধ করতে বুধবার ‘ওয়ার পাওয়ার রেজল্যুশন নামে একটি প্রস্তাব পাস করেছে কংগ্রেস সদস্যরা।
২১৫-২০৮ ভোটের ব্যবধানে পাস হওয়া এ প্রস্তাবটিতে সমর্থন দেন রিপাবলিকান পার্টির চার সদস্য। এছাড়া মেইনের ডেমোক্র্যাটিক সদস্য জ্যারেড গোল্ডেনও এবার প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। এর আগে তিনি একই ধরনের তিনটি প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছিলেন।
অন্যদিকে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেওয়া রিপাবলিকান সদস্যরা হলেন থমাস ম্যাসি, ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, টম ব্যারেট ও ওয়ারেন ডেভিডসন। ফল ঘোষণার পর ডেমোক্র্যাটিক সদস্যরা করতালির মাধ্যমে সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।
প্রস্তাবটি মূলত মেমোরিয়াল ডে উপলক্ষে কংগ্রেসের বিরতির আগে ভোটে তোলার কথা ছিল। তবে প্রয়োজনীয় সমর্থন না থাকায় রিপাবলিকান নেতৃত্ব তা স্থগিত করে দেয়। কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যের অনুপস্থিতি এবং আরও কয়েকজনের সমর্থনের সম্ভাবনার কারণে নেতৃত্বের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
এর আগে মে মাসে সেনেটেও ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান–নীতিকে সীমিত করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ একটি প্রস্তাব তোলা হয়েছিল। যদিও সেটি এখনো চূড়ান্তভাবে পাস হয়নি।
হাউযে পাস হওয়া প্রস্তাবটি এখন সেনেটে বিবেচনার জন্য যাবে। তবে সেনেটে কবে এ বিষয়ে ভোটাভুটি হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। হাউসের ডেমোক্র্যাটিক নেতারা সেনেটের রিপাবলিকান সদস্যদের প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অ্যামেরিকার ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন’ অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোনো সামরিক সংঘাতে অ্যামেরিকান বাহিনী ৬০ দিনের বেশি সময় যুক্ত থাকতে পারে না। ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত সেই সময়সীমা অতিক্রম করেছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির কারণে সময়সীমার হিসাব ভিন্নভাবে বিবেচনা করা উচিত।
প্রশাসনের আরেকটি যুক্তি হলো, ১৯৭৩ সালের আইনটি অসাংবিধানিক। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়নি।
তবে কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যও কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও এর অর্থনৈতিক প্রভাব আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।